ফেনীতে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ, কৃষক কার্ড ও সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা; সফর ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা

টুইট ডেস্ক: ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ১ অক্টোবর এ সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত থাকলেও পরে তা স্থগিত করে ১ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় নদী ও জলাধার পুনঃখনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ এবং সেচ অবকাঠামো সংস্কারের কাজ করা হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন। পরে সেখানে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর তিনি ফুলগাজীতে গিয়ে কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

এ সফরে পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়ার সরকারি দপ্তরে স্থাপিত মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেলের উদ্বোধনের কথাও রয়েছে। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা, কৃষক কার্ড এবং দরিদ্র শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে পরশুরাম ও ফুলগাজীতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলগুলোকে লাল, হলুদ ও সাদা—এই তিন নিরাপত্তা অঞ্চলে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। নিরাপত্তায় বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ, বিশেষ প্রতিক্রিয়া বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে জনসভাস্থল প্রস্তুত করা হচ্ছে। পরশুরাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড নির্মাণ এবং বিভিন্ন সড়ক ও অনুষ্ঠানস্থলে মেরামত ও প্রস্তুতিমূলক কাজও চলছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সফরকে কেন্দ্র করে বিশুদ্ধ পানি, পয়োনিষ্কাশন, পরিচ্ছন্নতা ও জনসভাস্থলের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর মেরামত ও সংস্কারকাজ চলছে।