বাবা-মায়ের পর এবার ছেলের জাতিসংঘে ভাষণ

একই পরিবারের তিনজন। তিনটি ভিন্ন সময়। আর বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ—জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ।

নিজস্ব প্রতি‌বেদক: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এবার তাঁদের ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেওয়ার মধ্য দিয়ে একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে এই বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য দেবেন তিনি।

জিয়া থেকে খালেদা, এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন। ১৯৯৩ সালে ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

দীর্ঘ সময় পর এবার সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হচ্ছেন তারেক রহমান। ফলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একই পরিবারের তিন সদস্যের উপস্থিতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে উঠছে।

তবে তিনটি সময়ের বৈশ্বিক বাস্তবতা এক নয়। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকের আন্তর্জাতিক রাজনীতি থেকে ২০২৬-এর পৃথিবী অনেক বদলে গেছে। যুদ্ধ ও সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, অর্থনৈতিক বৈষম্য, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরাই হবে এবারের ভাষণের প্রধান প্রেক্ষাপট।

একই অধিবেশনে সভাপতির আসনেও বাংলাদেশ

৮১তম সাধারণ পরিষদের এই অধিবেশনে বাংলাদেশের উপস্থিতির আরেকটি বিশেষ দিক রয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ২ জুন ২০২৬ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচনে তিনি ৯৯ ভোট পান।

অর্থাৎ, একই সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যখন দেশের বক্তব্য তুলে ধরবেন, তখন সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে থাকবেন বাংলাদেশেরই একজন প্রতিনিধি।

এই সমাপতন বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিকভাবে দৃশ্যমান একটি মুহূর্ত তৈরি করেছে।

প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এবারের বক্তব্যই হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ। প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে তিনি বাংলাদেশের বক্তব্য দেবেন। সফরকালে বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর বাংলায় বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতির কথাও এসেছে।

তিন প্রজন্মের প্রতীকী সংযোগ

জাতিসংঘের মঞ্চে জিয়াউর রহমানের উপস্থিতি ছিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি। খালেদা জিয়ার ভাষণ এসেছে ভিন্ন রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতায়। এবার তারেক রহমানের পালা এমন এক সময়ে, যখন বৈশ্বিক রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার সমীকরণও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

তাই ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় বক্তব্য নয়; একই পরিবারের তৃতীয় সদস্যের জাতিসংঘে উপস্থিতির কারণে এর রয়েছে আলাদা ঐতিহাসিক ও প্রতীকী তাৎপর্য।

বাবা গিয়েছিলেন আগে, মা গিয়েছিলেন পরে—এবার সেই একই বিশ্বমঞ্চে উঠছেন ছেলে।

জিয়াউর রহমান → খালেদা জিয়া → তারেক রহমান—জাতিসংঘের মঞ্চে একই পরিবারের দীর্ঘ যাত্রায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরেকটি অধ্যায়।