কোহাট মসজিদে হামলার দায় স্বীকার, সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান পাকিস্তানের

পুলিশ কমপ্লেক্সে গাড়িবোমা ও গুলিবর্ষণ; ২২ ঘণ্টার অভিযানে ৮ হামলাকারী নিহত, আহত শতাধিক
টু্ইট প্রতিবেদক: পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাটে পুলিশ কমপ্লেক্সের ভেতরের একটি মসজিদে বোমা হামলা ও পরবর্তী বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৬ জন পুলিশ সদস্য। আহত হয়েছেন ১০০ জনের বেশি। হামলার পর প্রায় ২২ ঘণ্টা ধরে চলা অভিযানে আট হামলাকারী নিহত হয়েছে বলে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের সময় কোহাটের পুরোনো পুলিশ লাইনস কমপ্লেক্সে হামলাটি ঘটে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি কমপ্লেক্সের প্রবেশপথের কাছে বিস্ফোরিত হয়। ওই কমপ্লেক্সে জেলা পর্যায়ের পুলিশ সদর দপ্তরের পাশাপাশি কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি), স্পেশাল ব্রাঞ্চসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কার্যালয় রয়েছে। নামাজের সময় সেখানে পুলিশ সদস্য, তাদের পরিবারের সদস্য ও অন্য মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।
কোহাট হামলার পর আফগান তালেবানকে সন্ত্রাসী আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান পাকিস্তানের
বিস্ফোরণের পর সশস্ত্র হামলাকারীরা পুলিশ কমপ্লেক্সে ঢোকার চেষ্টা করে। এরপর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হয়। হামলাকারীদের একটি অংশ কমপ্লেক্সের স্পেশাল ব্রাঞ্চ এলাকায় অবস্থান নেয়। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ, সিটিডি ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালায়। প্রায় ২২ ঘণ্টা পর শনিবার অভিযান শেষ হয় এবং আট হামলাকারী নিহত হওয়ার কথা জানায় খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশ।
হামলার পর প্রথমদিকে নিহতের সংখ্যা কম ছিল। পরে আহতদের মৃত্যু ও ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩১-এ দাঁড়ায়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে নিহতদের মধ্যে ১৬ জন পুলিশ সদস্য এবং আহতদের বড় অংশও পুলিশ সদস্য।
দায় স্বীকার
হামলার দায় ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান নামে একটি গোষ্ঠী স্বীকার করেছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। গোষ্ঠীটিকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ফ্যাকশন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তবে হামলার সঙ্গে ‘ভারত-সমর্থিত টিটিপি’ সংশ্লিষ্টতার দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি হামলার পর ‘বিদেশি মদদে’ পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন, তবে এ ধরনের বক্তব্যকে হামলার নির্দিষ্ট উৎস বা পৃষ্ঠপোষকতার স্বাধীন প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
কোহাটের হামলাটি খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে সাম্প্রতিক সহিংসতার ধারাবাহিকতার মধ্যে ঘটেছে। হামলার আগের দিন হাঙ্গু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে বোমা হামলায় ছয় সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। একই সময়ে পাকিস্তানি বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানোর কথাও জানিয়েছে।
কোহাট হামলার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি উদ্ধার তৎপরতা দ্রুত সম্পন্ন এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। প্রেসিডেন্ট জারদারিও হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন।
কোহাটের এই হামলায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন সংখ্যা প্রকাশিত হলেও ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থানীয় কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর সর্বশেষ হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৩১ এবং আহতের সংখ্যা ১০০-এর বেশি। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানও শেষ হয়েছে।
কোহাটের পুলিশ কমপ্লেক্সে ভয়াবহ হামলার পর আফগান তালেবান কর্তৃপক্ষকে তাদের ভূখণ্ডে থাকা সন্ত্রাসী আস্তানাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘ প্রায় ২২ ঘণ্টার অভিযানে আট হামলাকারী নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ।






