ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বরিস জনসন

পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেনটিতে ছিলেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক সিআইএ প্রধান ডেভিড পেট্রেয়াস
টুইট ডেস্ক: ইউক্রেনের পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলার সময় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ প্রধান ডেভিড পেট্রেয়াস। হামলার কিছুক্ষণ আগে তারা ইউরোপের কয়েকটি দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে একটি ট্রেনে ওই এলাকা অতিক্রম করেন।
ইউক্রেনীয় রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বরিস জনসন ও ডেভিড পেট্রেয়াসকে বহনকারী ট্রেনটি পোল্যান্ড সীমান্তের একটি সীমান্তপথ অতিক্রম করার কিছুক্ষণ পর কাছাকাছি এলাকায় রুশ ড্রোন হামলা হয়। হামলার আশঙ্কায় ট্রেনটির সময়সূচি পরিবর্তন করে নির্ধারিত সময়ের আগেই সেটিকে স্টেশন থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
রেল কর্তৃপক্ষের ধারণা, হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ওই ট্রেনটিও থাকতে পারে। তবে হামলার সময় ট্রেনে থাকা কেউ হতাহত হননি। নিরাপত্তার কারণে যাত্রীদের দ্রুত ট্রেন থেকে নামিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর আগেও রাতে কয়েক ঘণ্টার জন্য যাত্রীদের ট্রেন থেকে নামতে হয়েছিল।
রোববার রাতভর ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হামলা চালায় রাশিয়া। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ৪৫০টির বেশি রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ছয়জন নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা ৪০৫টি ড্রোন ও চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
রাজধানী কিয়েভ ও পূর্বাঞ্চলের যুদ্ধক্ষেত্রের তুলনায় পশ্চিম ইউক্রেন সাধারণত তুলনামূলক শান্ত থাকলেও এবারের হামলায় ওই অঞ্চলও বড় ধরনের আঘাতের শিকার হয়েছে। হামলার কারণে ইউক্রেনের প্রতিবেশী পোল্যান্ডেও বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়।
ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দোরোহুস্ক-ইয়াহোদিন সীমান্ত পারাপার এলাকা থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরে একটি পণ্যবাহী ট্রাকেও হামলা হয়েছে।
বরিস জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি স্থির ইউক্রেনীয় রেল ইঞ্জিনে হামলার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের বেসামরিক রেলপথে প্রতিদিন এ ধরনের এলোমেলো ও অর্থহীন হামলা চালানো হচ্ছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই হামলাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সরাসরি সীমান্তের কাছে রাশিয়ার আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয়রা প্রতিদিন লড়াই করছে, যাতে রুশ হামলা ইউরোপের আরও ভেতরে ছড়িয়ে না পড়ে।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেনে রুশ হামলা আরও তীব্র হতে পারে এবং এর প্রভাব পোল্যান্ডের ভূখণ্ডেও পড়তে পারে। ইউক্রেনের সীমান্ত পারাপারগুলো বাধাগ্রস্ত, অচল বা ধ্বংস করার সম্ভাব্য রুশ পরিকল্পনা সম্পর্কে আগেই গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, পশ্চিম ইউক্রেনের রেল অবকাঠামো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। মস্কোর দাবি, এসব রেলপথ ইউরোপ থেকে ইউক্রেনে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
এদিকে যুদ্ধের বিস্তার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয় লিথুয়ানিয়াতেও। রাজধানী ভিলনিয়াসের বিমানবন্দরে আকাশে ড্রোন দেখা যাওয়ার আশঙ্কায় সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ করা হয়। ন্যাটো একটি যুদ্ধবিমানও পাঠায়। পরে জানা যায়, আকাশে দেখা বস্তুগুলো আসলে একঝাঁক পাখি। প্রায় ৪০ মিনিট পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।






