দেবতাখুমের পথে মৃত্যুফাঁদ: ৫০ মিটারের খাদ পেরিয়েই পর্যটন!

রোয়াংছড়ির ভাঙা সড়ক: সৌন্দর্যের পথেই ঝুঁকি, প্রশাসন বলছে ‘দ্রুত সংস্কার’ একটা দুর্ঘটনাই শেষ করে দিতে পারে পার্বত্য পর্যটন – রোয়াংছড়ির সড়ক নিয়ে উদ্বেগ। 

নিজস্ব প্রতিবেদন: বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার কচ্ছপতলী-আলেক্ষ্যং সড়ক। দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট দেবতাখুম ও শীলবান্ধা ঝর্ণায় যাওয়ার একমাত্র প্রবেশদ্বার। কিন্তু এই সৌন্দর্যের রাস্তাটিই এখন পরিণত হয়েছে আতঙ্কের নামে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ধস ও ভাঙন। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা খালসংলগ্ন প্রায় ৫০ মিটার অংশে। সেখানে সড়ক ভেঙে তৈরি হয়েছে গভীর খাদ। নেই কোনো গাইডওয়াল, নেই নিরাপত্তা বেষ্টনী। বৃষ্টি হলেই কাদা আর পানিতে ওই খাদ আরও ভয়ংকর রূপ নেয়।

“জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চালাই”

প্রতিদিন এই পথ দিয়েই যাতায়াত করেন স্থানীয়রা। কৃষিপণ্য, স্কুলের বাচ্চা, রোগী – সবাইকে এই ভাঙা রাস্তা দিয়েই যেতে হয়।

আর দেশ-বিদেশের শত শত পর্যটকও একই ঝুঁকি নিয়ে ছুটছেন দেবতাখুমের নীল পানির টানে।

রোয়াংছড়ি ট্যুর গাইড সমিতির সভাপতি চিংনুমং মারমা ক্ষোভের সাথে বলেন,

“আমরা প্রতিদিন পর্যটক নিয়ে যাই। রাস্তার এই অবস্থা দেখলে নিজেদেরই ভয় লাগে। আল্লাহ না করুক, এখানে একটা বড় দুর্ঘটনা ঘটলে শুধু রোয়াংছড়ি না, পুরো পার্বত্যাঞ্চলের পর্যটন শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে।”

ইউপি চেয়ারম্যানের উদ্বেগ:-

৩ নং আলেক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ তংচংঙ্গা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। প্রতিনিয়ত গাড়ি বিকল হয়ে যানজট লেগে যাচ্ছে।

রোয়াংছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাথোয়াই অং মারমা*র দাবি,

পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতি বাঁচাতে অবিলম্বে সরেজমিন পরিদর্শন করে টেকসই সংস্কার, ভাঙন প্রতিরোধক দেয়াল এবং নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ করতে হবে।”

প্রশাসন কী বলছে?

এ বিষয়ে উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ফরহাদ ফয়েজ জানান, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং ইতোমধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করা হবে। এ বিষয়ে এলজিইডির সাথে আলোচনা চলছে।”

তবে স্থানীয় ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের একটাই কথা – আশ্বাস না, কাজ চাই। দুর্ঘটনার আগেই ব্যবস্থা চাই।

২-৩ জন মিলে চট্টগ্রাম থেকে আসা মো: নকিব পর্যটকের “আমার বাইক একবার খাদে পড়তে পড়তে বেঁচেছি” টাইপের।