রাজশাহীর হিমাগারে আলুর ভাড়া ৫ টাকা চান চাষি-ব্যবসায়ীরা

সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ ৬ টাকার বদলে ৫ টাকা ভাড়ার দাবি, বস্তার নিট ওজন থেকে ৫ কেজি বাদ দেওয়ার আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর হিমাগারগুলোতে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণে ৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ এবং বস্তার নিট ওজন থেকে ৫ কেজি বাদ দিয়ে ভাড়া নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আলুচাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজশাহীর পবা উপজেলার তকিপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানায় রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। এতে সংগঠনের সভাপতি আহাদ আলী শাহসহ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি।
লিখিত বক্তব্যে ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ২০২৫ সাল থেকে হিমাগারে আলু সংরক্ষণে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছেন আলুচাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ আগস্ট কৃষি বিপণন অধিদপ্তর আলু সংরক্ষণের সর্বোচ্চ ভাড়া ৬ টাকা নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এর আগে সর্বোচ্চ ভাড়া ছিল ৬ টাকা ৭৫ পয়সা।
তবে সমিতির নেতাদের দাবি, সরকার নির্ধারিত ৬ টাকা কোনো নির্দিষ্ট ভাড়া নয়; এটি সর্বোচ্চ ভাড়ার সীমা। ফলে এর চেয়ে কম ভাড়া নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে।
ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীর জন্য গঠিত জেলা সুপারিশ কমিটি হিমাগারের পরিচালন ব্যয় ও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনা করে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণে ৫ টাকা ভাড়া এবং বস্তার নিট ওজন থেকে ৫ কেজি বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। তাঁরা ওই সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছেন।
তিনি বলেন, রাজশাহীর জেলা সুপারিশ কমিটির প্রধান ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)। হিমাগারগুলোর পরিচালন ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেই কমিটি সুপারিশ করেছে। তাই রাজশাহীর বাস্তবতায় এ সুপারিশ কার্যকর করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণের ভাড়া ছিল ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৪০০ থেকে ৪৮০ টাকা পর্যন্ত হয়। এতে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত দুই বছর ধরে আলুর দাম কম থাকায় চাষি ও ব্যবসায়ীরা লোকসানে রয়েছেন। এর মধ্যে হিমাগারের বাড়তি ভাড়া তাঁদের ওপর আরও চাপ তৈরি করেছে। সংরক্ষণের ত্রুটিতে আলু নষ্ট হলেও অনেক ক্ষেত্রে ওই আলুর ভাড়াও দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি রাজশাহীর হিমাগার মালিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য, আলুচাষি, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিক একে অন্যের পরিপূরক। বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের কারণে তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের তিক্ততা তৈরি হোক, তা তাঁরা চান না।
ইফতেখারুল ইসলাম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আলুর চাষ ও ব্যবসায় ধারাবাহিক লোকসান চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে আলুর আবাদ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এতে হিমাগারগুলোও পর্যাপ্ত আলু পাবে না। তাই এখনই চাষি, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকদের আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে হিমাগারগুলোতে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এর দায় হিমাগার মালিকদের নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে রাজশাহীর সব হিমাগার মালিকের প্রতি জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণে ৫ টাকা ভাড়া এবং বস্তার নিট ওজন থেকে ৫ কেজি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।






