রাশিয়ার রেকর্ড আপেল উৎপাদন, বাংলাদেশে রপ্তানির আহ্বান

পাঁচ বছরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭০০ হেক্টর নতুন বাগান, উৎপাদন বাড়িয়ে আপেলে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে রাশিয়া; নিরাপদ ও মানসম্মত আপেল বাংলাদেশে বেশি পাঠানোর আহ্বান।
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাশিয়ায় চলতি ২০২৬ সালে আপেলের উৎপাদন প্রায় ২১ লাখ টনে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়। ২০২৫ সালে দেশটিতে আপেল উৎপাদন হয়েছিল রেকর্ড ২০ লাখ টন, যা ২০২৪ সালের ১৮ লাখ টনের চেয়ে বেশি।
রাশিয়ার কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে দেশটির আপেলে স্বয়ংসম্পূর্ণতাও বাড়ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আপেলে রাশিয়ার স্বয়ংসম্পূর্ণতার হার ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৮ সালের মধ্যে শতভাগ স্বয়ংসম্পূর্ণতার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি।
গত পাঁচ বছরে রাশিয়ার সংগঠিত খাতে আপেল উৎপাদন প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ বেড়েছে। ২০২০ সালে উৎপাদন ছিল ১২ লাখ টন, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ২০ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে দেশটিতে ফল ও বেরি চাষের আওতা বাড়াতে ব্যাপকভাবে নতুন বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭০০ হেক্টর রয়েছে নিবিড় বাগান।
রাশিয়ার এ উৎপাদন সক্ষমতা বাংলাদেশের জন্যও সম্ভাবনাময় বাজার তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শীতপ্রধান দেশটির উন্নত জাতের আপেল বাংলাদেশে নিয়মিত ও বড় পরিমাণে আমদানির সুযোগ তৈরি হলে বাজারে সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য বিকল্প উৎস তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাশিয়াকে বেশি পরিমাণে আপেল রপ্তানির আহ্বান জানানো যেতে পারে। তবে আমদানির ক্ষেত্রে নিরাপদ ও মানসম্মত আপেল নিশ্চিত করা, ক্ষতিকর রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্যনিরাপত্তা পরীক্ষার মান কঠোরভাবে অনুসরণ করা জরুরি।
রাশিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ-রাশিয়া কৃষিপণ্য বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও এটি একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।






