নওগাঁয় পুলিশের চোখ এখন এআই! ৬৪ পয়েন্টে দিন-রাত নজরদারি

ফেস রিকগনিশন, নম্বর প্লেট শনাক্ত ও সন্দেহভাজন যানবাহন অনুসরণে নতুন প্রযুক্তি।

নিজস্ব প্রতিনিধি: অপরাধ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নওগাঁয় চালু হলো এআই কানেক্টেড ডিজিটাল সার্ভিলেন্স ও সাইবার ল্যাব। এর আওতায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৬৪টি পয়েন্টের ক্যামেরা কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এআইভিত্তিক ফেস ডিটেকশন ও রিকগনিশন, নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহন শনাক্তের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে পুলিশের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) নওগাঁ জেলা পুলিশের উদ্যোগে নির্মিত এআই কানেক্টেড ডিজিটাল সার্ভিলেন্স ও সাইবার ল্যাবের উদ্বোধন করেন নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জাহিদুল ইসলাম ধলু। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) মোঃ আশিক সাঈদ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নতুন এ ব্যবস্থায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৬৪টি পয়েন্টের ক্যামেরা কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ক্যামেরাগুলোতে এআইভিত্তিক ফেস ডিটেকশন ও রিকগনিশন প্রযুক্তি রয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তির তথ্য ‘ওয়ার্নিং লিস্টে’ সংরক্ষণের পাশাপাশি যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত ও তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে। চুরি যাওয়া কিংবা সন্দেহভাজন যানবাহন শনাক্ত ও অনুসরণের পাশাপাশি রিয়েল-টাইম ডেটাবেজের সঙ্গে তথ্য সমন্বয়ের সুবিধাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা যানবাহন শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটনের আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

উদ্বোধন শেষে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আশিক সাঈদ। সভাপতিত্ব করেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

বক্তব্যে ডিআইজি মোঃ আশিক সাঈদ বলেন, রাজশাহী বিভাগে প্রথম জেলা শহর হিসেবে নওগাঁ এআইভিত্তিক ক্যামেরা নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতিতে অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

তিনি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক আস্থা, সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মাদক নিয়ন্ত্রণে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা দিতে স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

ডিআইজি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার পুলিশি সক্ষমতা বাড়ালেও নিরাপদ সমাজ গঠনে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অপরাধমুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

সুধী সমাবেশে নওগাঁর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, গণমাধ্যমকর্মী এবং জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।