নেপাল-চীনে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে মৃত্যু ছাড়াল ১ হাজার

টুইট ডেস্ক: নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন হাজারো মানুষ। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এপি এ তথ্য জানিয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৯৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক। এ ছাড়া ১১ হাজার ৮১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বন্যায় বহু সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন এলাকায় আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

গত ২৬ আগস্ট হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ এ দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ ও গলিত পানি নিচের উপত্যকায় নেমে আসে। এতে নদীগুলোতে আকস্মিক পানির প্রবাহ বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়। শক্তিশালী ধসের ফলে ভূগর্ভে ৫ দশমিক ২ মাত্রার কম্পনও সৃষ্টি হয় বলে জানানো হয়েছে।

বন্যার পানির সঙ্গে কাদা ও পাথরের স্রোত নেপাল ও তিব্বতের উপত্যকার নদীগুলো দিয়ে দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসে। এতে ঘরবাড়ি, ভবন, সড়ক ও সেতু ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়।

উদ্ধারকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ৯০০ নিখোঁজ শ্রমিককে খুঁজে বের করা। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বিভিন্ন সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপালের সেনাবাহিনী প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, উদ্ধারকারীরা কাদা, পানি ও ধ্বংসস্তূপে ভরা অন্ধকার সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে নিখোঁজদের সন্ধান করছেন। কোথাও কাদার মধ্য দিয়ে হেঁটে, আবার কোথাও পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ করা হচ্ছে।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া হেলিকপ্টারচালক বিমল শর্মা এপিকে বলেন, তিব্বত সীমান্তবর্তী শহর তিমুরেতে ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখে তিনি হতবাক হয়েছেন। বহু বছর ধরে পরিচিত ওই এলাকা দেখে তাঁর মনে হয়েছে, তিনি যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে উড়ছেন।

এদিকে চীনের তিব্বত অংশেও ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা চলছে। বিশেষ করে গ্যিরং বন্দর ও আশপাশের এলাকায় কাদাধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরটি প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

চীনে সর্বশেষ রোববারের হিসাবে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দেশটিতে এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক।

চীনের উদ্ধারকারীরা প্রশিক্ষিত কুকুরের সহায়তায় পাথর ও ধ্বংসস্তূপের ফাঁকে জীবিতদের সন্ধান করছেন। পাশাপাশি ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে গ্যিরং বন্দরের সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক সচল করার চেষ্টা চলছে। সড়কটি চালু হলে দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকর্মী, ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছানো সহজ হবে।

দুই দেশের দুর্গত এলাকাগুলোতে এখনো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া যোগাযোগব্যবস্থা, প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই উদ্ধারকারীদের কাজ করতে হচ্ছে।