র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারে বাংলাদেশের রুনা খান

প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের আত্মনির্ভরতার সুযোগ তৈরিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মানজনক এশীয় পুরস্কার পেলেন ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা
টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান ২০২৬ সালের র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন। এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারকে অনেক সময় ‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার ফাউন্ডেশন ২০২৬ সালের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। রুনা খানের সঙ্গে এ বছর সিঙ্গাপুরের টমি কোহ ও মিয়ানমারের বো চিও পুরস্কারটি পেয়েছেন।
প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে রুনা খানকে এ সম্মান দেওয়া হয়েছে। পুরস্কার ফাউন্ডেশনের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সুযোগ তৈরি করা এবং পিছিয়ে পড়া মানুষকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়ে তোলার সক্ষমতা তৈরিতে রুনা খানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
রুনা খানের প্রতিষ্ঠিত ফ্রেন্ডশিপ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের দুর্গম চরাঞ্চল ও নদীবিধৌত এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে মৌলিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংস্থাটির কার্যক্রম দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।
র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার ফিলিপাইনের সপ্তম প্রেসিডেন্ট র্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেওয়া হয়। ১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। একই বছর তাঁর স্মৃতি রক্ষায় র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৫৮ সাল থেকে নিয়মিত এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
প্রতি বছর ৩১ আগস্ট র্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের জন্মদিনে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়। এ বছর পুরস্কারের ৬৮তম আসর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ১৫ নভেম্বর ম্যানিলার মেট্রোপলিটন থিয়েটারে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
১৯৫৮ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ছয়টি নির্দিষ্ট শ্রেণিতে র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার দেওয়া হতো। এগুলো ছিল সরকারি সেবা, জনসেবা, সামাজিক নেতৃত্ব, সাংবাদিকতা-সাহিত্য-সৃজনশীল যোগাযোগকলা, শান্তি ও আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া এবং উদীয়মান নেতৃত্ব। ২০০৯ সাল থেকে উদীয়মান নেতৃত্ব ছাড়া অন্য নির্দিষ্ট শ্রেণিগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
রুনা খানের এই অর্জন বাংলাদেশের বেসরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষের ক্ষমতায়ন ও অধিকারভিত্তিক উন্নয়ন উদ্যোগেরও গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।






