সাবেকদের টানে রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজে অ্যালামনাই পুনর্মিলনীর যাত্রা শুরু

অ্যালামনাই পুনর্মিলনীর রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন। উদ্বোধনে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাড়া।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: দীর্ঘদিন পর একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্মৃতি ও বন্ধনের টানে একত্র হওয়ার আয়োজন শুরু করেছে নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ, রাজশাহীর সাবেক শিক্ষার্থীরা। কলেজটির এইচএসসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (NGDCHSCAA) উদ্যোগে আসন্ন পুনর্মিলনীকে সামনে রেখে শনিবার (২৯ আগস্ট) রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট। সাবেক শিক্ষার্থীদের এই আয়োজনে তার উপস্থিতি অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি।
বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, পবা-মহনপুরের এমপি অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট এবং অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈশাসহ অন্য অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, এমপি।
শুধু পুনর্মিলনী নয়, সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ
আয়োজকদের ভাষ্য, সময়ের ব্যবধানে কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছেন। কেউ সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে, কেউ ব্যবসা-বাণিজ্যে, আবার কেউ নিজ নিজ পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। কর্মজীবনের ব্যস্ততায় অনেকের সঙ্গে অনেকের যোগাযোগও কমেছে।
এই বিচ্ছিন্নতাকে কাটিয়ে সাবেক শিক্ষার্থীদের আবার একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার লক্ষ্যেই পুনর্মিলনীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পুরোনো সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃস্থাপন, কলেজজীবনের স্মৃতি রোমন্থন এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও জোরদার করার প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।
রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের উদ্বোধনের দিন থেকেই সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নিজেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সহপাঠীদেরও যুক্ত করার উদ্যোগ নিচ্ছেন।
আয়োজকদের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক কেবল পাঠ্যজীবনের সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। দীর্ঘদিন পরও সেই প্রতিষ্ঠানের স্মৃতি, শিক্ষক, সহপাঠী ও ক্যাম্পাসজীবনের অভিজ্ঞতা মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে। অ্যালামনাই কার্যক্রম সেই সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
আয়োজকরা মনে করছেন, এই পুনর্মিলনী সাবেক শিক্ষার্থীদের মিলনমেলার পাশাপাশি কলেজের ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি সুযোগ তৈরি করবে।
বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী আয়োজনের মাধ্যমে কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরির সম্ভাবনাও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে শিক্ষা, সামাজিক উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা রয়েছে তাদের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাবেক শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ সময় পর প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বন্ধু ও সহপাঠীদের সঙ্গে আবারও একত্র হওয়ার সুযোগ তাদের কাছে আবেগ ও আনন্দের। তাদের প্রত্যাশা, আসন্ন পুনর্মিলনী হবে শুধু স্মৃতিচারণের আয়োজন নয়—বরং সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ভিত্তি।
রেজিস্ট্রেশন উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া কার্যক্রম এখন এগিয়ে যাচ্ছে মূল পুনর্মিলনী আয়োজনের দিকে। বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সেই আয়োজনকে স্মরণীয় করে তুলতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন আয়োজকরা।







