রাবিতে নতুন স্বপ্নের যাত্রা: নবীন শিক্ষার্থীদের বর্ণাঢ্য বরণ

রাবিতে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ, ‘মেধাবীদের মধ্যে মেধাবী’ বলে স্বাগত। উপাচার্যের আহ্বান—আজ থেকে তোমরাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর।

রাজশাহী প্রতি‌নি‌ধি: বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত স্নাতক ও স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করা হয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (বিমক) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীনবরণ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য-সচিব ও ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর এ এইচ এম খুরশীদ আলম স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় প্রক্টর প্রফেসর মো. মাহবুবর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নবীন শিক্ষার্থীদের সামনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের নির্দেশনায় নির্মিত একটি পরিচিতিমূলক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষায়, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক বিষয়। যারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তারা মেধাবীদের মধ্যে মেধাবী।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধার উৎকর্ষ প্রদর্শন ও স্বপ্ন পূরণের যে অভিযাত্রা শুরু হয়েছে, তা আগামীতেও অক্ষুণ্ন রাখতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে শুভবোধ ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে। আগামী দিনের সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। জাতি এই শিক্ষার্থীদের মধ্যেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে দেখতে চায়।

সভাপতির বক্তব্যে রাবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ফরিদুল ইসলাম নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আজ থেকে তারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অংশীদার হিসেবে তারা রাবিকে ধারণ করবে এবং এর ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার দায়িত্বও তাদের।

তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার অঙ্গন স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তার সুতিকাগার। তবে এই স্বাধীনতা অবারিত নয়। শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজেদের কাজ, আচার-আচরণ ও চিন্তাভাবনায় এর ইতিবাচক প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার টিএসসিসির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক প্রফেসর মুর্শিদা ফেরদৌস বিনতে হাবিব।