পাসের হার শূন্য: ব্যাখ্যা চাইল কারিগরি শিক্ষা বোর্ড

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় শূন্য পাস: ২৯টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ, সাত কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত ২০২৬ সালের এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পাসের হার শূন্য থাকায় মোট ২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড।
বৃহস্পতিবার বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ (ভোকেশনাল শাখা) থেকে জারি করা স্মারক নং ৫৭.১৭.০০০০.৩০১.৯৯.৩৩৩.২৫-৬৫-এ এ তথ্য জানানো হয়। স্মারকের বিষয় ছিল «২০২৬ সালের এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পাসের হার শূন্য থাকার কারণ ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে»।
স্মারকে বলা হয়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত উক্ত পরীক্ষায় নিম্ন তালিকায় উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানসমূহের পাসের হার শূন্য হওয়ার বিষয়ে লিখিত বক্তব্য আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্মকর্তার নিকট জমা দিতে হবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। তালিকায় ক্রমিক নং ৩০ থেকে ৫৮ পর্যন্ত মোট ২৯টি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ফরম পূরণকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম এবং কেউই পাস করেনি। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ভোকেশনাল শাখা এমপিওভুক্ত বলেও মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালিকায় যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে সেগুলো হলো— শাহপুর মোস্তফাবিয়া দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসা, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর (কোড ১৩১৬৬), যেখানে ২০ জন ফরম পূরণ করে ১৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে; কাচাকাটা মডেল মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড কলেজ, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম (কোড ১৭০৮৫), ৬ জনের মধ্যে ৩ জন অংশগ্রহণকারী; চকমানিকপুর আমিরিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা (কোড ১৮২১২), ১৫ জনের মধ্যে ৩ জন; নিমদীঘি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট, নিয়ামতপুর, নওগাঁ (কোড ২১০৬২), ৭ জনের মধ্যে ৫ জন; জোতাবাজার আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়, মান্দা, নওগাঁ (কোড ২১১৯৪), ৬ জনের মধ্যে ৫ জন; কচুয়া কারিগরি ভোকেশনাল স্কুল ও বাণিজ্যিক মহাবিদ্যালয়, তানোর, রাজশাহী (কোড ২৩০০৬), ১৬ জনের মধ্যে ১২ জন (ভোকেশনাল শাখা এমপিওভুক্ত); বালুদিয়াড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ, চারঘাট, রাজশাহী (কোড ২৩০৯০), ১১ জনের মধ্যে ৯ জন; শ্রীপুর রামনগর টেকনিক্যাল বিএম কলেজ, বাগমারা, রাজশাহী (কোড ২৩০৯৮), ৩ জনের মধ্যে ১ জন; শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়, পুঠিয়া, রাজশাহী (কোড ২৩১৬৪), ২১ জনের মধ্যে ১৯ জন এবং মুকুমালা পৌরসভা সাদিপুর টেকনিক্যাল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, তানোর, রাজশাহী (কোড ২৩১৯৯), ১৮ জনের মধ্যে ১০ জন।
এছাড়াও রয়েছে পশ্চিম জিকরা হাই স্কুল, চারঘাট, রাজশাহী (কোড ২৩৩১২), ১০ জনের মধ্যে ৯ জন; কলম কারিগরি স্কুল ও কলেজ, সিংড়া, নাটোর (কোড ২৪০৫৬), ৪২ জনের মধ্যে ৩৯ জন (ভোকেশনাল শাখা এমপিওভুক্ত); বাগাতিপাড়া পৌর মহিলা কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নাটোর (কোড ২৪১১৪), ১৮ জনের মধ্যে ১০ জন; কুটারগাঁতী দাখিল মাদ্রাসা, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ (কোড ২৫২৫৭), ৭ জনের মধ্যে ৩ জন; ফজিলাতুন্নেছা গার্লস স্কুল, সদর, পাবনা (কোড ২৬০১৮), ৮ জনের মধ্যে ৭ জন; বলরামপুর দারুল নুমাহ দাখিল মাদ্রাসা, হরিণাকুণ্ডু, ঝিনাইদহ (কোড ৩০০৪৫), ১৩ জনের মধ্যে ৮ জন; চাঁদপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চৌগাছা, যশোর (কোড ৩৩১৮১), ১৫ জনের মধ্যে মাত্র ২ জন; দক্ষিণ লতাবাড়িয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, সদর, বরগুনা (কোড ৩৮০১৯), ১৪ জনের মধ্যে ১২ জন (ভোকেশনাল শাখা এমপিওভুক্ত); হিজলা বি এল পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, বরিশাল (কোড ৪২০২২), ২ জনের মধ্যে ১ জন এবং কাহেমোবাদ ছিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা, গৌরনদী, বরিশাল (কোড ৪২০৮০), ১০ জনের মধ্যে ৫ জন।
তালিকার বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো গোয়ালেরচর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইসলামপুর, জামালপুর (কোড ৫৫০৬৮), ৬ জনের মধ্যে ৪ জন; সভারচর এইচ আর খান ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, ইসলামপুর, জামালপুর (কোড ৫৫১৩২), ১৫ জনের মধ্যে ১৩ জন; রাবেয়া শামসুদ্দিন কারিং গার্লস স্কুল, কেন্দুয়া, নেত্রকোণা (কোড ৫৮০৮১), ৮ জনের মধ্যে ৬ জন; আইডিয়াল কারিগরি স্কুল, সদর, নেত্রকোণা (কোড ৫৮০৮৬), ৮ জনের মধ্যে ৬ জন; মালনী কারিগরি স্কুল, সদর, নেত্রকোণা (কোড ৫৮১০৭), ৩১ জনের মধ্যে ২৪ জন; টৌগ্রাম ফয়জুন্নেছা মহিলা মাদরাসা, কুমিল্লা (কোড ৬৫০০৫), ৬ জনের মধ্যে ৫ জন; মশপুর পদুয়ারা সালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসা, আদর্শ সদর, কুমিল্লা (কোড ৬৫১৯৭), ৫ জনের মধ্যে ২ জন; দাওয়াতুল ইমান মডেল বিজ্ঞান কারিগরি দাখিল মাদ্রাসা, চাটখিল, নোয়াখালী (কোড ৬৬০৯৫), ২ জনের মধ্যে ১ জন এবং রুমখুপালং ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, উখিয়া, কক্সবাজার (কোড ৭৪০৭৯), ১১ জনের মধ্যে ৭ জন।
স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী মোঃ আবুল কালাম আজাদ এবং উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভোকেশনাল) প্রকৌশলী জাকারিয়া আহসান। অনুলিপি পাঠানো হয়েছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বোর্ডের সচিব/পরিচালক/পরিকল্পনা পরিচালক, আঞ্চলিক পরিচালকগণ, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং চেয়ারম্যানের দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পাসের হার শূন্য থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় তদন্ত শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল স্মারক (১৯ আগস্ট ২০২৬)।






