নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে রুশ রাষ্ট্রদূত

বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের অংশগ্রহণ; নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা রুশ দূতাবাসের।
টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং বিদেশি কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩৪৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ছয়জন ভোট দেননি।
নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত ও পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল রাষ্ট্রপতির শপথ পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারসহ কয়েকশ বিশিষ্ট অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের উপস্থিতি দুই দেশের বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে জ্বালানি, বাণিজ্য, খাদ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে। রাশিয়ার অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের সঙ্গে মস্কোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা প্রকল্প।
রাষ্ট্রদূত খোজিন ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে বাংলাদেশে দায়িত্ব শুরু করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি ঢাকা-মস্কো সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রাশিয়ার দূতাবাস মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে এবং নতুন দায়িত্ব পালনে তাঁর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেছে।
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব গ্রহণ দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ১৯৯১ সালের পর এটিই বাংলাদেশের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন; ফলে তাঁর নির্বাচিত হওয়া ও শপথ গ্রহণ জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।






