বাগমারায় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন: সম্মাননা পেলেন সফল চাষি-উদ্যোক্তারা

মাছ দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস: এমপি ডা. বারী সরদার
বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি: ‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীর বাগমারায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে বাগমারায় মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, নিরাপদ মাছ উৎপাদন এবং মৎস্য খাতের উন্নয়নে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা এবং সফল মৎস্যচাষি, উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে ১৬ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত বাগমারায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, নিরাপদ মাছ উৎপাদন এবং মৎস্য খাতের উন্নয়নে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুল বারী সরদার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. আব্দুল বারী সরদার বলেন, মাছ দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস। মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।
তিনি বলেন, মৎস্যচাষিদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তরুণদের মৎস্য চাষে সম্পৃক্ত করা গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। নিরাপদ ও পুষ্টিকর মাছ উৎপাদনে মৎস্যচাষিদের আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভবানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সোবহান এবং মৎস্যচাষি আক্কাস আলী ও ডালিম হোসেন।
বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতি, পুষ্টি ও কর্মসংস্থানে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বাগমারায় মাছ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত জাতের মাছ চাষ, পুকুরের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি পরামর্শ অনুসরণ করা হলে এ অঞ্চলে মৎস্য উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।
তারা আরও বলেন, শুধু মাছের উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, প্রাকৃতিক জলাশয়, নদী-নালা, খাল-বিল এবং জলজ প্রাণীর প্রজননক্ষেত্রও সংরক্ষণ করতে হবে। নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার ও অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে স্থানীয় জনগণকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে সফল মৎস্যচাষি, উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে মোট তিনজনকে সম্মাননা দেওয়া হয়। অতিথিরা সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে স্মারক তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, মৎস্যচাষি, উদ্যোক্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।






