প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ২১–২৫ আগস্ট, জটিলতা কাটাতে দিল্লির আশাবাদ

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর; আলোচনায় শেখ হাসিনা প্রত্যর্পণ, সীমান্ত ও পানি বণ্টন ইস্যু
টুইট ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২১ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে সফরটি হতে পারে। তবে সফরের তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হতে পারে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগে তাকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের বিশেষ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তবে সফরের আগে সবচেয়ে বড় জটিলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়টি। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারত থেকে বক্তব্য দেওয়ার পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি ভারতের কাছে গুরুত্বের সঙ্গে তোলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণকে তার সরকারের অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে তুলে ধরেছেন। এ বিষয়ে দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট না হলে ভারত সফর করা তার জন্য কঠিন হতে পারে—এমন বার্তাও ঢাকার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এর মধ্যেই ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈনের বাংলাদেশ সফর এবং দেশটির নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
শেখ হাসিনা ইস্যুর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা, কথিত অবৈধ অভিবাসী ‘পুশ-ইন’, জ্বালানি সহযোগিতা এবং গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন ও তিস্তা চুক্তির মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক যোগাযোগে ভারতের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন। ফলে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও দুই দেশই সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার পথ খুঁজছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিকস সম্মেলনের বিশেষ আউটরিচ অধিবেশনেও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ২১ আগস্টকে সম্ভাব্য সফরের তারিখ ধরে আলোচনা এগোলেও শেখ হাসিনা ইস্যুতে ঢাকা-দিল্লির অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে তারেক রহমানের ভারত সফরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।





