রাজশাহীর বারানই নদীতে কচুরিপানার স্তূপ: চরম ঝুঁকিতে তালতলী খেয়াঘাট ব্রিজ

কচুরিপানা ও ময়লা জমে পিলারে চাপ, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজশাহী জেলার বারানই নদীর মৎস্য অভয়ারণ্য এলাকায় কচুরিপানা ও ভাসমান ময়লার স্তূপ জমে তালতলী খেয়াঘাট ব্রিজ চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। নদীর স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা কচুরিপানা ও বর্জ্য ব্রিজের স্তম্ভে আটকে গিয়ে পিলারগুলোর ওপর বিপুল চাপ সৃষ্টি করছে। পচে যাওয়া কচুরিপানা থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রিজের আশপাশের নদীপথের বড় একটি অংশ কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। মৎস্য অভয়ারণ্য এলাকায় মাছের বিচরণ ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে নদীর নির্দিষ্ট অংশে বাঁশ ফেলে কচুরিপানা ও অন্যান্য ভাসমান উপকরণ আটকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এভাবে কচুরিপানা আটকে রাখার কারণে ধীরে ধীরে সেখানে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা, ময়লা-আবর্জনা ও ভাসমান বর্জ্য জমা হচ্ছে। সেখান থেকেই পরবর্তীতে নদীর স্রোতের সঙ্গে কচুরিপানা ছড়িয়ে পড়ে ব্রিজের পিলারের কাছে এসে আটকে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানা আটকে থাকায় নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্রিজের পিলারের চারপাশে কচুরিপানা ও বর্জ্যের স্তূপ তৈরি হচ্ছে। এতে পিলারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি ব্রিজের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কচুরিপানা পচে যাওয়ায় নদীর পানিতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে স্তূপের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষ ও নদীপথ ব্যবহারকারীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে পানির স্রোত বাড়লে জমে থাকা কচুরিপানা ও বর্জ্যের চাপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে ব্রিজের ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে।
এলাকাবাসী জানান, কয়েক মাস ধরে পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ করা না হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ আরও বাধাগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে ব্রিজের পিলারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
স্থানীয়রা মৎস্য অভয়ারণ্য রক্ষার পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও ব্রিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কচুরিপানা আটকে রাখার জন্য ব্যবহৃত বাঁশের কাঠামো ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায়, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পর্যালোচনা করতে হবে।
এদিকে, ব্রিজের পিলারগুলো পরীক্ষা করে কাঠামোগত অবস্থা যাচাই, নদীপথ থেকে কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে পরিবেশগত ঝুঁকির পাশাপাশি তালতলী খেয়াঘাট ব্রিজের নিরাপত্তা ও স্থানীয় মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।







