নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে নতুন শঙ্কা, বাড়ছে জটিলতা

জুডিশিয়াল সার্ভিসের ১০০ শতাংশ ভাতা দাবিতে গেজেট প্রকাশের আগে ফের পর্যালোচনা; আর্থিক সংকট ও মূল্যস্ফীতিও ভাবাচ্ছে সরকারকে

টুইট ডেস্ক: সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সচিব কমিটি নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত করলেও জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন-ভাতা নিয়ে নতুন জটিলতায় বিষয়টি আবারও পর্যালোচনার পর্যায়ে গেছে।

জানা গেছে, জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা মূল বেতনের সমপরিমাণ বা ১০০ শতাংশ ভাতা দাবি করেছেন। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গেজেট প্রকাশের আগে পুরো বিষয়টি আরও যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ এসেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে।

এ কারণে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদন নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের পর্যালোচনা শুরু করতে যাচ্ছে অর্থ বিভাগ।

অর্থ বিভাগ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে নবম পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং বিভিন্ন খাতের বেতন কাঠামোর মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা করেছেন। কোথাও বৈষম্য বা অসঙ্গতি থাকলে তা দ্রুত সমাধানের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

আর্থিক সংকটেও বাড়ছে দুশ্চিন্তা

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সরকারের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিও পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ফলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সময়সূচি আরও পিছিয়ে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও সরকারের ভেতরে আলোচনা চলছে।

জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামো নিয়ে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি শিগগির বৈঠকে বসবে। ওই বৈঠকে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ও গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করা হবে।

মূল বেতন বাড়তে পারে সর্বোচ্চ ১৪০ শতাংশ

এর আগে ১২ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে নতুন প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে।

প্রস্তাবে গ্রেডভেদে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।

নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাবও রয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং পরের বছর বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

তবে জুডিশিয়াল সার্ভিসের দাবির নতুন জটিলতা, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ-সব মিলিয়ে নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন ও সময়সূচি নিয়ে এখনো অপেক্ষা করতে হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের।