বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা, ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের কাছাকাছি ব্রেন্ট

টুইট ডেস্ক: হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা সফল হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় বেড়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারে পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরে সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ৮৯ দশমিক ৬১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এই দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।

বিশ্ববাজারে তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতির অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। কিন্তু বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার মাত্র ১০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। অথচ যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করত।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কাতার দ্রুত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

তবে ইরান জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনা হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয় থেকে আলাদা। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধক্ষতিপূরণ এবং অবরোধ প্রত্যাহারের মতো নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ থাকবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ওয়াশিংটনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে বাস্তবে যুদ্ধের আগের তুলনায় এই জলপথে জাহাজ চলাচল এখন অত্যন্ত সীমিত।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটেরার বলেন, বাজার এখনো চুক্তির সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি। তবে দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া আলোচনা যত দীর্ঘায়িত হবে, দ্রুত সমাধানে পৌঁছানোর বিষয়ে অনিশ্চয়তাও তত বাড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন মঙ্গলবার প্রকাশিত সর্বশেষ বাজার পূর্বাভাসে জানিয়েছে, ২০২৭ সালের শুরুর আগে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন যুদ্ধপূর্ব অবস্থার কাছাকাছি ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৭ ডলার হতে পারে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক স্পার্টা কমোডিটিজের জ্যেষ্ঠ তেল বাজার বিশ্লেষক জুন গোহের মতে, হরমুজ প্রণালির উভয় দিকে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু না হলে তেল উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সীমিত থাকবে। কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন করে অগ্রগতি না এলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।