দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন, ইউএনওদের প্রধানমন্ত্রী

খাল খননে সাশ্রয়ী কাজে প্রশংসা ৮৩ ইউএনওকে, সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের ঘোষণা

টুইট ডেস্ক: দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আয়োজিত সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

খাল খনন প্রকল্পের কাজ সততার সঙ্গে সম্পন্ন করে উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় ৮৩টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রশংসা ও ধন্যবাদ জানাতে এ সভার আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের জন্য মানুষের সেবা করার সুযোগ একটি বড় আমানত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যেতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ আমরা আছি, কাল থাকব না। তাই পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এখন থেকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলকে নিজের এলাকার মতো বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নিজের এলাকা না হলেও সেটি দেশেরই একটি অংশ। সেখানকার মানুষও নিজের আপনজনের মতো। দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

শুধু আইন করে সমাজের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ ও খেলাধুলার প্রসারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন।

মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের মধ্যে ধীরে ধীরে দয়া-মায়া ও সহমর্মিতা কমে যাচ্ছে। এই প্রবণতা বাড়তে থাকলে সামাজিক শান্তি নষ্ট হবে। তাই নিজ নিজ এলাকায় মানুষের প্রতি মানুষের দরদ ও সহমর্মিতা বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে।

পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই মানবিকতা ও প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধ শেখাতে হবে। বাংলাদেশকে সব প্রাণী ও জীবের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

সভায় খাল খননের সুফল তুলে ধরে বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা জানান, খাল পুনঃখননের ফলে অনেক এলাকায় কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। যেসব এলাকায় আগে বছরে দুই ফসল হতো, সেখানে এখন তিন ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খননের মূল উদ্দেশ্য নদীমাতৃক বাংলাদেশের পুরোনো চিত্র ফিরিয়ে আনা। পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় সংকট তৈরি করতে পারে। তাই এখন থেকেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে হবে।

তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।

সভায় উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়া ৮৩ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।