স্বাস্থ্যকর মনে হলেও আসলে ততটা উপকারী নয় যেসব খাবার

প্যাকেটের মোড়ক দেখে নয়, জেনে-শুনে খাবার বেছে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক: সুস্থ থাকতে অনেকেই সাদা পাউরুটির বদলে ব্রাউন ব্রেড, বিস্কুটের পরিবর্তে এনার্জি বার বা এক গ্লাস ফলের রস বেছে নেন। তবে বাজারে স্বাস্থ্যকর বলে প্রচার করা অনেক খাবারই বাস্তবে ততটা পুষ্টিকর নয়। আকর্ষণীয় প্যাকেজিং এবং ‘লো-ফ্যাট’, ‘মাল্টিগ্রেন’ বা ‘ন্যাচারাল’ শব্দ দেখে বিভ্রান্ত হওয়া সহজ। তাই খাবার কেনার আগে এর উপাদান সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।

ব্রাউন ব্রেড

অনেকেই মনে করেন ব্রাউন ব্রেড মানেই স্বাস্থ্যকর। কিন্তু সব ব্রাউন ব্রেড শতভাগ গম দিয়ে তৈরি হয় না। অনেক ক্ষেত্রে ময়দার রুটিকে ক্যারামেল বা গুড় দিয়ে বাদামি রঙ দেওয়া হয়। তাই রঙ দেখে নয়, প্যাকেটের উপাদান তালিকা দেখে নিশ্চিত হোন এটি ১০০ শতাংশ হোল হুইট কি না।

এনার্জি বার

ব্যস্ত সময়ে দ্রুত ক্ষুধা মেটাতে এনার্জি বার জনপ্রিয় হলেও এতে অনেক সময় অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ, চকোলেট কোটিং ও সংরক্ষণকারী উপাদান থাকে। কিছু এনার্জি বারে সাধারণ চকোলেট বারের সমান চিনি থাকতে পারে। তাই এটি নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প নয়।

স্বাদযুক্ত দই

দই প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও প্রোবায়োটিকের ভালো উৎস। তবে ফলের ফ্লেভার বা মিষ্টি দইয়ে অতিরিক্ত চিনি ও কৃত্রিম স্বাদ যোগ করা হয়। তাই স্বাস্থ্যগত উপকার পেতে চাইলে মিষ্টি বা ফ্লেভারযুক্ত দইয়ের পরিবর্তে টক দই বেছে নেওয়াই ভালো।

প্যাকেটজাত ফলের রস

ফলের রসকে অনেকেই ফলের বিকল্প মনে করেন। কিন্তু প্রক্রিয়াজাত করার সময় ফলের বেশিরভাগ ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়। অনেক প্যাকেটজাত জুসে অতিরিক্ত চিনিও মেশানো থাকে। তাই জুসের পরিবর্তে আস্ত ফল খাওয়াই বেশি উপকারী।

কম চর্বিযুক্ত খাবার

‘লো-ফ্যাট’ লেখা থাকলেই খাবারটি স্বাস্থ্যকর—এমন ধারণা ঠিক নয়। অনেক সময় চর্বি কমানোর বদলে স্বাদ বজায় রাখতে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা স্টার্চ যোগ করা হয়। তাই শুধু সামনের লেবেল নয়, পুষ্টিগুণের তথ্যও দেখে নেওয়া উচিত।

ভেজিটেবল চিপস

বিট, পালং শাক বা মিষ্টি আলুর চিপস স্বাস্থ্যকর মনে হলেও এগুলো সাধারণত তেল, লবণ ও স্টার্চ দিয়ে তৈরি বা ভাজা হয়। ফলে তাজা সবজি থেকে যে পুষ্টি পাওয়া যায়, তার বিকল্প হিসেবে এগুলোকে ধরা যায় না।

স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার কয়েকটি পরামর্শ

* প্যাকেটের উপাদান তালিকা ও পুষ্টিগুণের তথ্য পড়ুন।
* অতিরিক্ত চিনি, সোডিয়াম ও কৃত্রিম উপাদান আছে কি না খেয়াল করুন।
* প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে যতটা সম্ভব তাজা ও প্রাকৃতিক খাবার বেছে নিন।
* শুধুমাত্র ‘লো-ফ্যাট’ বা ‘ন্যাচারাল’ লেখা দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না।

শেষ কথা

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য শুধু খাবারের নাম বা বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর না করে এর প্রকৃত উপাদান সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। সঠিক তথ্য জেনে খাবার নির্বাচন করলে সুস্থ থাকা অনেক সহজ হয়ে যায়।