বান্দরবানে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালুর দাবিতে মানববন্ধন

২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু, আইসিইউ-ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন ও আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সেবার দাবিতে মানববন্ধন; স্বাস্থ্যসেবা সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান।

বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবান সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসেবা সংকট নিরসন এবং ২৫০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সচেতন ছাত্র সমাজ।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা বলেন, একটি ২৫০ শয্যার হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে— ২৫০ শয্যার হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা, সদর হাসপাতালে আইসিইউ ও ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন, আধুনিক সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু, হামের প্রাদুর্ভাব ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় অবহেলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পাহাড়ি জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

মানববন্ধনে ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ ইকবাল বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জন্য উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু বান্দরবান সদর হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, বিশেষায়িত সেবা ও জনবলের অভাবে রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে আইসিইউ সুবিধা না থাকা, অ্যাম্বুলেন্স সংকট এবং হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সীমাবদ্ধতা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

অন্যান্য বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, ফলে স্বাস্থ্যখাতের সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

মানববন্ধন শেষে দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থানজামা লুসাই এবং জেলা সিভিল সার্জনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। তবে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা যায়।

স্মারকলিপি গ্রহণের পর সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী জানান, উদ্ভূত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এদিকে সচেতন ছাত্র সমাজ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, জনগণের ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

স্থানীয়দের মতে, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও সেখানে আইসিইউ, ডায়ালাইসিস সুবিধা এবং উন্নত অ্যাম্বুলেন্স সেবা না থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় হামে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা চালুর দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।