তথ্য চাইতে গিয়ে সাংবাদিকের নামে জিডি: রংপুরে প্রশ্নের মুখে সিআইডি কর্মকর্তা

সাংবাদিকের নামে জিডি প্রত্যাহারের দাবি; ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর: রংপুর সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (পদাবনতিপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে তথ্য জানতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিকের নামে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে রংপুরের সাংবাদিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
সিআইডির কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, সুমিত চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া ভাউচার তৈরি, সরকারি জ্বালানি তেল আত্মসাৎ এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি যানবাহনের নামে অতিরিক্ত জ্বালানির বিল দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, অচল যানবাহনের নামেও জ্বালানি বরাদ্দ দেখানো এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের মতো অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, অতীতেও বিভিন্ন কর্মস্থলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে সাংবাদিকের নামে জিডি করার বিষয়টি স্বীকার করে রংপুর সিআইডির প্রশাসনিক পরিদর্শক (এডমিন ইন্সপেক্টর) আবুল হাসান কবির বলেন, জিডিতে মূলত সদ্য বদলিকৃত এক পরিদর্শকের সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেখানে সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়নি।
ঘটনার প্রতিবাদে রংপুর সাংবাদিক সমাজের আহ্বায়ক লিয়াকত আলী বাদল বলেন, তথ্য জানতে চাওয়ার কারণে কোনো সাংবাদিকের নামে জিডি করা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরপিইউজে)-এর সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক এবং সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহার মান্নান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য চাওয়া সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার। তারা সাংবাদিক বাদশাহ ওসমানীর নামে করা জিডি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলা শাখার সম্পাদক অধ্যাপক ফখরুল আনাম বেনজু বলেন, বিতর্কিত অভিযোগ থাকা কোনো কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি সুমিত চৌধুরীকে সাংবাদিককে এ ঘটনায় না জড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপরও সাংবাদিকের নাম জিডিতে আসা অনাকাঙ্ক্ষিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সিআইডি সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) মিয়া মাসুদ করিম বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে। তিনি বলেন, তথ্য জানতে চাওয়ার কারণে সাংবাদিকের নামে জিডি করা সমীচীন হয়নি।
অন্যদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে সুমিত চৌধুরী বলেন, “আমি কোনো অন্যায়, অনিয়ম বা দুর্নীতি করিনি। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো ভিত্তিহীন। কে বা কারা এসব তথ্য দিচ্ছে, তা খুঁজে বের করা হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিক সমাজ, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।






