প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর স্থগিত, পরবর্তী গন্তব্য সৌদি আরব ও জাপান

দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েন: জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি।
বিশেষ প্রতিবেদক:অমীমাংসিত দ্বিপক্ষীয় ইস্যু, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার ঘাটতির কারণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফর স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই সফরটি আপাতত হচ্ছে না এবং এর পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পরবর্তী বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে সৌদি আরব ও জাপান সফর করতে পারেন।
সফর স্থগিতের নেপথ্যে: দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েন
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ক্ষমতা গ্রহণের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে জুলাই মাসে এই দ্বিপক্ষীয় সফরটি হওয়ার কথা ছিল। তবে ঢাকা ও নয়াদিল্লির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, বেশ কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐক্যমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। সফর স্থগিতের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
জ্বালানি ও পাইপলাইন সংকট
হরমোজ প্রণালীর চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে বাংলাদেশ যখন তীব্র জ্বালানি সংকটে ভুগছে, তখন ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ বৃদ্ধির অনুরোধের বিষয়টি ঝুলে রয়েছে।
আস্থার সংকট ও রাজনৈতিক সমীকরণ
২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।
অনুকূল পরিবেশের অভাব: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই দেশের সম্পর্কের “তাপমাত্রা” স্বাভাবিক হলে এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনার জন্য পুরোপুরি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেই এই সফরটি অনুষ্ঠিত হবে।
নতুন গন্তব্য: সৌদি আরব ও জাপান
ভারত সফর পিছিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিতে এখন “বাংলাদেশ ফার্স্ট” (Bangladesh First) এবং কৌশলগত ভারসাম্যের নীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। পাক্ষিক কূটনৈতিক সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী গন্তব্য হতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়া:
সৌদি আরব সফর
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুব শীঘ্রই রিয়াদ সফরে যাচ্ছেন। হরমোজ সংকটের এই সময়ে দেশের জন্য জরুরি জ্বালানি তেলের নিশ্চয়তা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ সচল রাখার লক্ষ্যে এই সফরটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
জাপান সফর
সৌদি আরবের পরপরই টোকিও সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বাংলাদেশের বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগ এবং নতুন প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাপানের সহযোগিতা জোরদার করাই এই সফরের মূল লক্ষ।
’বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে অনড় ঢাকা
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের যেকোনো আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত দেশের জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হচ্ছে, কারও কোনো ডিক্টেশন বা প্রভাবে নয়। ভারতের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য এবং প্রধান এশীয় অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার করে বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করাই এখন নতুন সরকারের মূল অগ্রাধিকার।






