পেলেকে পেছনে ফেলে নতুন মাইলফলকে হ্যারি কেইন

কঙ্গোর বিপক্ষে ২-১ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয়ে শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড, বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১৩ গোল করে নতুন উচ্চতায় অধিনায়ক কেইন

স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর এক নাটকীয় ও ঐতিহাসিক ম্যাচে নিশ্চিত পরাজয়ের মুখ থেকে ফিরে এসে জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে থ্রি লায়ন্সরা।

এই জয়ের নায়ক অধিনায়ক হ্যারি কেইন, যিনি একই ম্যাচে দুই গোল করে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের ১২ গোলের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের অবস্থান আরও উঁচুতে নিয়ে গেছেন।

খেলার শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে কঙ্গোর চ্যান্সেল এমবেম্বার লং বল ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ ভেদ করে এগিয়ে যায়। বল পেয়ে ব্রায়ান সিপেঙ্গা বক্সের বাঁ দিক থেকে শট নেন, যা ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের হাত ছুঁয়ে জালে জড়িয়ে পড়ে। এতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় কঙ্গো। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি ছিল সিপেঙ্গার প্রথম গোল।

গোল হজমের পর পুরো প্রথমার্ধে একচেটিয়া আক্রমণ চালায় ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহাম, মার্কাস রাশফোর্ডসহ একাধিক খেলোয়াড় গোলের সুযোগ তৈরি করলেও কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি অসাধারণ দক্ষতায় সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। বিরতির আগে পেনাল্টির আবেদন করেন হ্যারি কেইন, তবে রেফারি তা নাকচ করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে কোচ থমাস টুখেল কৌশলগত পরিবর্তন এনে দলে প্রাণ সঞ্চার করেন। বুকায়ো সাকা, অ্যান্থনি গর্ডন এবং এবেরেচি ইজেকে নামিয়ে আক্রমণের গতি বাড়ানো হয়।

ম্যাচের ৭৫ মিনিটে সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড। অ্যান্থনি গর্ডনের দারুণ ক্রস থেকে কেইন হেড করে বল জালে পাঠান। স্কোরলাইন হয় ১-১। এই গোলের মাধ্যমে কেইন স্পর্শ করেন পেলের ১২ গোলের রেকর্ড।

এরপর ৮৬ মিনিটে আসে জয়সূচক গোল। আবারও গর্ডনের পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জোরালো শট নেন কেইন। প্রায় ১০০ কিলোমিটার গতির বল সোজা জালের ওপরের কোণে গিয়ে লাগে। এতে ২-১ গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড এবং শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত হয়। এটি ছিল কেইনের বিশ্বকাপে ১৩তম গোল।

এই দুই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলদাতাদের তালিকায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন হ্যারি কেইন। বর্তমান তালিকায় শীর্ষে আছেন লিওনেল মেসি (১৯), এরপর কিলিয়ান এমবাপ্পে (১৮), মিরোস্লাভ ক্লোসে (১৬), রোনালদো নাজারিও (১৫), গার্ড মুলার (১৪) এবং যৌথভাবে হ্যারি কেইন ও জাস্ট ফঁতেন (১৩)।

চলতি বিশ্বকাপে কেইনের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫, যা তাকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছাকাছি রেখেছে।

ম্যাচ শেষে হ্যারি কেইন বলেন, “এটি সত্যিই পাগলাটে একটি ম্যাচ ছিল। তাদের গোলরক্ষক প্রথমার্ধে অসাধারণ খেলেছে। আমাদের ধৈর্য ধরে লড়তে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছি, এখন আমরা পরবর্তী রাউন্ডে মনোযোগ দিচ্ছি।”

কোচ থমাস টুখেল বলেন, “এটি সহজ ম্যাচ ছিল না। তবে খেলোয়াড়রা যে মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে, সেটাই আমাদের জয়ের মূল চাবিকাঠি।”

শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কো-হোস্ট মেক্সিকো। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটিতে।

এই জয় শুধু ইংল্যান্ডের টুর্নামেন্টে টিকে থাকার গল্প নয়, বরং হ্যারি কেইনের অসাধারণ নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্সের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। ৩২ বছর বয়সেও তিনি যেভাবে একের পর এক রেকর্ড গড়ছেন, তাতে স্পষ্ট—ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে তিনি এখন এক অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করছেন।

ম্যাচ শেষ। ইংল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে জয়ী। হ্যারি কেইন ম্যাচসেরা নির্বাচিত। উদযাপনে মেতেছে ইংলিশ শিবির।