সঞ্চয়পত্র বিক্রয়ে বাধা দিলে ব্যবস্থা: গ্রাহক নিরুৎসাহিত করলে ব্যবস্থা

গ্রাহক সেবা নিশ্চিত ও বিনিয়োগে নিরুৎসাহিতকরণ বন্ধে ডিএমডি সার্কুলার; শাখায় অভিযোগ ব্যবস্থাপনা দৃশ্যমান রাখার নির্দেশ।

টুইট প্রতিবেদক: সঞ্চয়পত্র বিক্রয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নয়নে তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রতি কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিএমডি সার্কুলার লেটার নং-০৯/২০২৬ অনুযায়ী, কোনোভাবেই গ্রাহকদের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করা যাবে না এবং বিক্রয় প্রক্রিয়ায় সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার (২৪ জুন) জারি করা এ সার্কুলারটি দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে, কিছু ব্যাংক শাখা নানা অজুহাতে সঞ্চয়পত্র বিক্রয়ে অনীহা দেখাচ্ছে বা গ্রাহকদের নিরুৎসাহিত করছে। ফলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চয় কর্মসূচির কার্যকারিতা ব্যাহত হচ্ছে।

সার্কুলারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, সঞ্চয়পত্র রুলস, ১৯৭৭-এর অনুচ্ছেদ ৩ অনুযায়ী ব্যাংকগুলো ইস্যু অফিস হিসেবে গ্রাহকদের কাছে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে বাধ্য এবং এ ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি শাখা পর্যায়ের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গ্রাহকসেবা জোরদারে প্রতিটি শাখায় অভিযোগ গ্রহণের পদ্ধতি দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে দ্রুত নিষ্পত্তিরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশোধিত সঞ্চয়পত্র বিধিমালা অনুযায়ী, ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, ৩ বছর মেয়াদি মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য সরকারি সঞ্চয় স্কিমের ইস্যু কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক, ডাকঘর এবং জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরো দায়িত্ব পালন করে থাকে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ সংগ্রহে সঞ্চয়পত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই এর বিক্রয় প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বাধা অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগ গ্রাহক অধিকার রক্ষা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ নির্দেশনার ফলে ব্যাংক শাখাগুলোতে সঞ্চয়পত্র বিক্রয় আরও সহজ ও গতিশীল হবে, গ্রাহকদের অভিযোগ কমবে এবং সেবার মান উন্নত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারিও জোরদার হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলো শাখা পর্যায়ে আলাদা সঞ্চয়পত্র ডেস্ক চালু, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে গ্রাহকসেবা আরও উন্নত করতে পারে।