ব্যাংক খাত সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

খেলাপি ঋণ কমানো, আমানত সুরক্ষা ও আর্থিক স্থিতিশীলতায় জোর।

টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, খেলাপি ঋণ কমানো, আমানতকারীদের সুরক্ষা জোরদার এবং সামগ্রিক আর্থিক খাত সংস্কারের লক্ষ্যে ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৪৫ কোটি ডলার) ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক এই প্রকল্পের আওতায় এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

বুধবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হবে।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য

এই প্রকল্পের আওতায় ব্যাংক খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষায় ডিপোজিট প্রটেকশন ফান্ডের মূলধন বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন,
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের কাঠামোগত সংস্কার ও পুনর্গঠন কৌশল প্রণয়ন,

খেলাপি ঋণ কমানো, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি, ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ জোরদার, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর উন্নয়ন ও সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করা, এবং জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, দুর্বল করপোরেট সুশাসন, ঋণ বিতরণে অনিয়ম এবং উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে দেশের ব্যাংক খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণের হার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি, যা দক্ষিণ এশিয়ার গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই সঙ্গে মূলধন ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের অনুপাতও ঋণাত্মক অবস্থায় নেমে এসেছে।

বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তাদের বক্তব্য

বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেসমে বলেন, দেশের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে একটি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী আর্থিক খাত অপরিহার্য। এই প্রকল্প আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।

সিনিয়র ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর বিশেষজ্ঞ তোশিয়াকি ওনো জানান, এটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য আর্থিক সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি আরও জোরদার হবে।

অন্যান্য সহায়তা

এই প্রকল্পটি দেশের চলমান ব্যাংকিং খাত সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সম্প্রতি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও বিশ্বব্যাংক মিলিয়ে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদন করা হয়েছে, যার মধ্যে ব্যাংকিং খাত সংস্কার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সরকার ইতোমধ্যে ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা, খেলাপি ঋণ ৮ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন বা একীভূতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই ঋণ সহায়তা এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে গতি আনবে।

এই সহায়তা দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।