জ্বালানি রূপান্তর সূচকে ৯৯তম বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পিছিয়ে অবস্থান, পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে

টুইট ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থায় অগ্রগতির মূল্যায়নে এবারও পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম ও অ্যাকসেঞ্চার প্রকাশিত ‘জ্বালানি রূপান্তর সূচক ২০২৬’-এ ১২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ৯৯তম।

সূচকটি মূলত একটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং নাগরিকদের জন্য সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করার সক্ষমতা বিবেচনায় তৈরি করা হয়। একই সঙ্গে বিদ্যমান জ্বালানি কাঠামো থেকে পরিচ্ছন্ন ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ব্যবস্থায় রূপান্তরের প্রস্তুতিও মূল্যায়নের আওতায় রাখা হয়।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, যার অবস্থান ৬৮তম। এর পর রয়েছে ভারত (৭০তম) ও পাকিস্তান (৯০তম)। বাংলাদেশ রয়েছে ৯৯তম স্থানে। অঞ্চলের আরেক দেশ নেপালের অবস্থান ১১১তম।

বিশ্ব পর্যায়ে টানা তৃতীয় বছরের মতো শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে সুইডেন। এরপর রয়েছে ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, প্রযুক্তি বিনিয়োগ এবং নীতিগত ধারাবাহিকতার কারণে এগিয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রগতি দেখা গেলেও জ্বালানি রূপান্তরের গতি এখনও সীমিত। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর উচ্চ নির্ভরতা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির তুলনামূলক কম অংশগ্রহণ বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বহুমুখীকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ জ্বালানি ব্যবহারে জোর দিতে হবে। অন্যথায় বৈশ্বিক জ্বালানি রূপান্তরের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।