আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতে আবারও ডুবল চট্টগ্রাম

মাত্র ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা; প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন, দুর্ভোগে নগরবাসী
টুইট ডেস্ক: মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের ভারী বৃষ্টিতেই আবারও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। নগরীর প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি—বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে চরম ভোগান্তি। ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ ও দিনমজুর শ্রেণির কর্মজীবীরা পড়েছেন দুর্দশায়।
শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে চকবাজার, কাতালগঞ্জ ও আশপাশের নিচু এলাকাগুলোতে। অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই দ্রুত পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কোথাও যানবাহন আটকে যায়, কোথাও পথচারীদের পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর একই চিত্র ফিরে আসছে।
কাতালগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, বহু বছর ধরে বৃষ্টি হলেই তাদের এলাকায় পানি জমে যায়। প্রকল্পের ঘোষণা থাকলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রিকশাচালক মো. জলিল বলেন, ছুটির দিনেও আয়ের জন্য বের হতে হয়, কিন্তু রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বেসরকারি চাকরিজীবী তানিয়া সুলতানা জানান, যানবাহন সংকটের কারণে অনেককে বাধ্য হয়ে জমে থাকা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়াও দাবি করা হয়েছে।
তবে নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার আলোচিত এলাকা প্রবর্তক মোড়ে এবার তুলনামূলক কম পানি দেখা গেছে। চলমান খাল-সংক্রান্ত উন্নয়নকাজের প্রভাব সেখানে কিছুটা দৃশ্যমান হলেও আশপাশের সংযোগ সড়ক ও নিচু এলাকাগুলো জলমগ্ন ছিল।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। তবে স্বল্প সময়ে বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকায় পানি দ্রুত জমে যায়। দিনভর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং থেমে থেমে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বৃষ্টিপাত নয়—ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, খাল পুনরুদ্ধার ও সংস্কারকাজে বিলম্ব এবং পানি নিষ্কাশনের সমন্বয়হীনতা চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতাকে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে পরিণত করেছে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, প্রকল্পের ঘোষণা নয়—দৃশ্যমান ও কার্যকর সমাধানই এখন সময়ের দাবি।






