হরমুজ সংকটে বদলে গেল বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের চিত্র

অবরোধের পর বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন বাস্তবতা, বদলে গেছে সরবরাহ ও কৌশলের মানচিত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | টুইটনিউজ২৪ ডটকম

টুইট প্রতিবেদক: বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির দীর্ঘ অচলাবস্থা শুধু তেলের বাজারেই অস্থিরতা সৃষ্টি করেনি, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থায়ীভাবে নতুন পথে পরিচালিত করেছে। সাম্প্রতিক সংকট বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছে, একটি মাত্র কৌশলগত জলপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণ সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু চলতি বছরের সংঘাতের সময় এই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং বহু দেশ বিকল্প সরবরাহ উৎস খুঁজতে বাধ্য হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর। দক্ষিণ এশিয়া, পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের বহু দেশ তাদের কৌশলগত মজুত ব্যবহার শুরু করে। একই সঙ্গে নতুন সরবরাহকারী দেশ ও বিকল্প পরিবহন রুটের দিকে ঝুঁকতে দেখা যায়।

সংকট চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে উৎপাদনকারী দেশগুলো উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ পায়। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও ভেনেজুয়েলাসহ বিভিন্ন দেশের রপ্তানি বৃদ্ধি পায়। ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরবরাহ উৎসের বৈচিত্র্য আরও বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাজারের ক্ষমতার ভারসাম্যেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যায়।

এদিকে অনেক দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎচালিত যানবাহন এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ সংকট প্রমাণ করেছে যে ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু তেলনির্ভর নীতির মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সমঝোতার ফলে প্রণালিতে ধীরে ধীরে নৌযান চলাচল পুনরায় শুরু হলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। শত শত জাহাজের জট, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ফিরতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠলে আগামী বছরগুলোতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তবে হরমুজ সংকটের শিক্ষা বিশ্ব অর্থনীতি সহজে ভুলবে না। কারণ এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, একটি কৌশলগত জলপথে অচলাবস্থা পুরো বিশ্বের জ্বালানি, পরিবহন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে কীভাবে নাড়িয়ে দিতে পারে।