মোহাম্মদপুরে ছিনতাইকারীদের হামলায় রক্তাক্ত ওসি-এসআই, গুলিতে আহত দুই অপরাধী

বিকাশ এজেন্টকে কোপানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ; গুলিতে আহত দুই অপরাধীসহ আটক চার।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকায় সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এক উপপরিদর্শক (এসআই)। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তারা রক্তাক্ত হলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায়। এতে ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্য আহত হয়। পরে চারজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় এক বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা লুটের ঘটনার পর বিকেলে এ অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শেখেরটেক ৭ নম্বর সড়কের কাছে বিকাশ ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম দোকান খোলার সময় ৪-৫ জন সশস্ত্র যুবক সেখানে ঢুকে পড়ে। তারা চাপাতি ও ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

শফিকুল বাধা দিলে হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে ক্যাশে থাকা প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ও লেনদেনের মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে। বিকেলে আদাবর থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় আত্মগোপনে থাকা ছিনতাইকারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে ওসি জাহিদুল ইসলাম ও এসআই তরুণ গুরুতর আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে দুই ছিনতাইকারী আহত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ দুইজনকে স্থানীয়ভাবে ‘চোরা রুবেল’ ও ‘কানা আমির’ নামে পরিচিত বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপর দুজন হলো কাশেম ও মো. জয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগেও ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আদাবর, শ্যামলী, ঢাকা উদ্যানসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি সংঘবদ্ধ কিশোর ও তরুণ অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে ছিনতাই, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও দখলবাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ বলছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো চক্রের সদস্যদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।