মনিকা গেলার থেকে হলিউড আইকন, ৬১-এও নির্ভীক কোর্টেনি কক্স

আত্মসন্দেহ পেরিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার সাহসেই নতুন অনুপ্রেরণা হলিউড তারকার।
টুইট ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক Friends–এর ‘মনিকা গেলার’ চরিত্রে অভিনয় করে কোটি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন Courteney Cox। ১৫ জুন ৬১ বছরে পা রাখা এই হলিউড অভিনেত্রীর জীবন শুধু সাফল্যের গল্প নয়; এতে রয়েছে আত্মসন্দেহ, সংগ্রাম, ব্যর্থতার ভয় এবং নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের এক দীর্ঘ পথচলা।
মডেলিং থেকে অভিনয়ের আলোয়
১৯৬৪ সালের ১৫ জুন যুক্তরাষ্ট্রের Birmingham শহরে জন্মগ্রহণ করেন কোর্টেনি কক্স। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্যবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত সেই পথে এগোননি। পরে নিউইয়র্কে গিয়ে মডেলিংয়ে যুক্ত হন। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে সংগীতচিত্রে অংশ নিয়ে পরিচিতি পান এবং এরপর টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করেন।
‘ফ্রেন্ডস’ বদলে দেয় জীবন
১৯৯৪ সালে শুরু হওয়া Friends কোর্টেনি কক্সের ক্যারিয়ারে বড় মোড় এনে দেয়। ‘মনিকা গেলার’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। টানা এক দশক সম্প্রচারিত ধারাবাহিকটি আজও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে সমানভাবে সমাদৃত। এই সাফল্যের পরও তিনি অভিনয়জীবনকে শুধু টেলিভিশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; চলচ্চিত্র ও প্রযোজনাতেও সক্রিয় থেকেছেন।
আত্মবিশ্বাসের পথে দীর্ঘ লড়াই
বাইরে থেকে আত্মবিশ্বাসী মনে হলেও কোর্টেনি কক্স বহু বছর ধরে আত্মসন্দেহে ভুগেছেন বলে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, একসময় নিজের অর্জনকে প্রাপ্য বলে মনে হতো না। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। এখন তিনি সিদ্ধান্ত নিতে বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে আগের তুলনায় অনেক বেশি সাহসী।
কক্সের ভাষায়, বয়স তাঁকে শিখিয়েছে ভয় না পেয়ে সামনে এগিয়ে যেতে। তিনি মনে করেন, জীবনের একটি পর্যায়ে এসে মানুষ সময়ের মূল্য এবং নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে বাস্তব উপলব্ধি অর্জন করে।
ব্যক্তিগত জীবনের চ্যালেঞ্জ
ব্যক্তিগত জীবনেও নানা উত্থান-পতনের মুখোমুখি হয়েছেন কোর্টেনি। অভিনেতা David Arquette–এর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পরও দুজন তাঁদের সন্তানের অভিভাবক হিসেবে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। পাশাপাশি বয়স ও সৌন্দর্য নিয়ে হলিউডের চাপের কারণে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তের জন্য পরবর্তীকালে আফসোসের কথাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
শতকোটি ডলারের সফলতা
বিনোদন অঙ্গনের বিশ্লেষকদের মতে, কোর্টেনি কক্সের সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর বড় অংশ এসেছে ‘ফ্রেন্ডস’ ধারাবাহিকের দীর্ঘমেয়াদি স্বত্বভিত্তিক আয় থেকে। পাশাপাশি অভিনয়, প্রযোজনা ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড থেকেও নিয়মিত আয় করছেন তিনি।
অনুপ্রেরণার নাম কোর্টেনি
৬১ বছরে পৌঁছেও কোর্টেনি কক্সের সবচেয়ে বড় বার্তা হলো,নিজের ওপর আস্থা রাখা। একসময় যে নারী আত্মবিশ্বাসের সংকটে ভুগতেন, আজ তিনি ঝুঁকি নিতে ভয় পান না। তাঁর জীবনগাথা মনে করিয়ে দেয়, সাফল্যের প্রকৃত শক্তি শুধু খ্যাতিতে নয়, বরং নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কারের সাহসে।






