২৪ বছরেই মা, তবু থামেননি সুস্মিতা

সমাজের সমালোচনা, ম্যানেজারের বিদায়—সব বাধা পেরিয়ে নিজের নিয়মে সাফল্যের গল্প।
বিনোদন ডেস্ক | TweetNews24.com
টুইট ডেস্ক: বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী Sushmita Sen আবারও আলোচনায়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, মাত্র ২৪ বছর বয়সে সন্তান দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর ক্যারিয়ারকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল। এমনকি সেই সময় তাঁর ম্যানেজারও বিশ্বাস করেছিলেন, এই সিদ্ধান্তের কারণে আর অভিনয়জগতে টিকে থাকা সম্ভব হবে না।
সুস্মিতা জানান, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি আপসের রাজনীতি এড়িয়ে চলেছেন। কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকলে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলতে শিখেছিলেন। আর এই স্বতন্ত্র অবস্থানই তাঁকে অনেক প্রভাবশালী নির্মাতা ও প্রযোজকের অপছন্দের তালিকায় ফেলেছিল।
১৯৯৪ সালে Miss Universe 1994 খেতাব জয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পান সুস্মিতা। পরে ১৯৯৬ সালে বলিউডে তাঁর অভিনয়যাত্রা শুরু হয়। অল্প সময়েই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন শীর্ষ অভিনেত্রীদের কাতারে। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের একটি সিদ্ধান্ত পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে বিস্মিত করেছিল,মাত্র ২৪ বছর বয়সে তিনি কন্যাসন্তান রেনেকে দত্তক নেন।
এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও সবাই তা ইতিবাচকভাবে নেয়নি। সুস্মিতার ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ম্যানেজার পর্যন্ত তাঁকে ছেড়ে চলে যান। ম্যানেজারের ধারণা ছিল, এত কম বয়সে একজন একক মায়ের পক্ষে নায়িকা হিসেবে ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
তবে সময় প্রমাণ করেছে ভিন্ন বাস্তবতা। মা হওয়ার পরই তাঁর অভিনীত বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র বাণিজ্যিক ও সমালোচনামূলক সাফল্য পায়। ‘ম্যায় হুঁ না’, ‘ম্যায়নে পেয়ার কিউঁ কিয়া’সহ একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে তিনি নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন।
সুস্মিতা বলেন, সমাজ ও শিল্পের প্রচলিত অনেক নিয়ম তিনি মানতে রাজি ছিলেন না। তাঁর বিশ্বাস ছিল, একজন স্বনির্ভর নারী হিসেবে নিজের জীবন ও সিদ্ধান্তের অধিকার তাঁরই। কোনো গডফাদার বা প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষক ছাড়া নিজের যোগ্যতায় তিনি পথ তৈরি করেছেন এবং মাতৃত্বের সিদ্ধান্তও নিয়েছেন সম্পূর্ণ নিজের বিশ্বাস থেকে।
পরে ২০১০ সালে দ্বিতীয় কন্যাসন্তান আলিশাহকেও দত্তক নেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২০ সালে ওয়েব সিরিজ Aarya–এর মাধ্যমে অভিনয়ে জোরালো প্রত্যাবর্তন করেন। সিরিজটি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসা কুড়ায় এবং আন্তর্জাতিক এমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করে।
সুস্মিতা সেনের এই অভিজ্ঞতা শুধু একজন অভিনেত্রীর সংগ্রামের গল্প নয়; এটি সমাজের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার এক অনন্য উদাহরণ।






