কেন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বৈচিত্র্য ভিসা’?

কম অভিবাসী দেশের নাগরিকদের সুযোগ দিতে চালু হয়েছিল কর্মসূচি, তবে নিরাপত্তা ও যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক তীব্র

টুইট প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের ‘বৈচিত্র্য ভিসা’ বা ডাইভার্সিটি ভিসা (ডিভি) কর্মসূচি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন নীতিকে ঘিরে মার্কিন রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে প্রশ্ন উঠছে,কেন এখনো লটারিভিত্তিক এই অভিবাসন ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং এর মূল উদ্দেশ্য কী?

বিশ্লেষকদের মতে, কর্মসূচিটি শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে এমন দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর জন্য, যেসব দেশ থেকে ঐতিহাসিকভাবে অভিবাসীর সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। মার্কিন কংগ্রেস ১৯৯০ সালের অভিবাসন আইনের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা চালু করে।

বর্তমানে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার পর্যন্ত বৈচিত্র্য ভিসা প্রদানের সুযোগ রাখে। যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্যে কম্পিউটারনির্ভর এলোমেলো নির্বাচনের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী বাছাই করা হয়। তবে লটারিতে নির্বাচিত হওয়াই ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়; আবেদনকারীকে শিক্ষা, কর্ম-অভিজ্ঞতা এবং নিরাপত্তা যাচাইসহ সব শর্ত পূরণ করতে হয়।

কেন বিতর্ক?

ডিভি কর্মসূচির সমর্থকদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী সমাজকে আরও বহুমাত্রিক করে এবং যেসব দেশের নাগরিকদের জন্য পরিবারভিত্তিক বা কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের সুযোগ সীমিত, তাদের জন্য একটি বিকল্প পথ তৈরি করে।

অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, কেবল লটারির ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেওয়া দক্ষতাভিত্তিক অভিবাসন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রতারণার ঝুঁকির বিষয়টিও তারা সামনে আনছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি কঠোর করার দাবির সঙ্গে এই কর্মসূচি বাতিল বা পুনর্বিন্যাসের আহ্বানও জোরালো হয়েছে।

কীভাবে কাজ করে কর্মসূচি?

ডিভি কর্মসূচিতে আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে সাধারণত এমন একটি দেশের নাগরিক হতে হয়, যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার কম। পাশাপাশি মাধ্যমিক শিক্ষার সমমানের যোগ্যতা অথবা নির্দিষ্ট ধরনের কর্ম-অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। প্রতি অর্থবছরে অঞ্চলভিত্তিক কোটা নির্ধারণ করা হয় এবং কোনো একক দেশ মোট ভিসার নির্দিষ্ট সীমার বেশি পেতে পারে না।

ভবিষ্যৎ কী?

ডিভি কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ রয়েছে। এক পক্ষ এটি অভিবাসনের বৈচিত্র্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখছে, অন্য পক্ষ দক্ষতা ও নিরাপত্তাভিত্তিক নতুন কাঠামোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে কর্মসূচিটির ভবিষ্যৎ অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।