ঋণনির্ভর বাজেট অর্থনৈতিক সংকট বাড়াবে: খেলাফত মজলিস

প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি, ঋণনির্ভরতা ও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন; দুর্নীতি ও অর্থপাচার রোধে কার্যকর উদ্যোগের দাবি

টুইট প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ঋণনির্ভর, উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে খেলাফত মজলিস। দলটির মতে, বিপুল ঘাটতির এই বাজেট দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট নিরসনের পরিবর্তে ভবিষ্যতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ এবং মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে হবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

নেতৃদ্বয়ের ভাষ্য, দেশীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। যদিও গত অর্থবছরের তুলনায় এ ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমানো হয়েছে, তবুও অর্থনীতিতে এর চাপ বহাল থাকবে বলে তারা মনে করেন। একই সঙ্গে বিদেশি ঋণ হিসেবে আরও ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনার কথাও তারা উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাজেট ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ চলে যাবে ঋণের সুদ পরিশোধে। এ খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয় ও সুদ পরিশোধের মতো অনুন্নয়ন খাতে অধিকাংশ অর্থ ব্যয় হওয়ায় উৎপাদনশীল খাত প্রত্যাশিত গুরুত্ব পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করা হয়।

খেলাফত মজলিসের নেতারা আরও বলেন, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত নয় এবং অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়নের যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন প্রস্তাবিত বাজেটে নেই।

তবে বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখার উদ্যোগ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে মোট দেশজ উৎপাদের ৫ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছে দলটি। তারা আগামী দুই বছরের মধ্যে এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঋণনির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কৌশল গ্রহণের কথা বলা হলেও বাস্তবে ঋণনির্ভর বাজেট কাঠামো জাতীয় ঋণের বোঝা বাড়িয়ে তুলছে। পাশাপাশি খুচরা ব্যবসায়ীদের করের আওতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে দলটি। সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয়ের পরিকল্পনা থাকলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় কার্যকর প্রতিশ্রুতির অভাব রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

খেলাফত মজলিস ঘুষ ও দুর্নীতি দমন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও অপচয় রোধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।