নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমলো ১ হাজার ২১৭ কোটি টাকা

ড্রেজিং, বন্দর উন্নয়ন ও গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প চলমান থাকলেও নতুন বাজেটে কমেছে খাতভিত্তিক বরাদ্দ।
টুইট প্রতিবেদক: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জন্য ৯ হাজার ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের প্রস্তাবিত ১০ হাজার ২৭৯ কোটি টাকার তুলনায় ১ হাজার ২১৭ কোটি টাকা কম। ফলে চলতি বাজেটে এ খাতের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে সরকার জানায়, বরাদ্দ কমলেও দেশের নৌপরিবহন অবকাঠামোর উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নাব্যতা রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নৌরুট সচল রাখতে ড্রেজিং
ও খনন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমের আগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন নৌপথে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া পায়রা ও মোংলা বন্দরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, স্থলবন্দর সম্প্রসারণ, নদীবন্দর ও লঞ্চঘাট আধুনিকায়ন এবং নৌপথে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। সরকারের মতে, এসব পদক্ষেপ দেশের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
বাজেট প্রস্তাবে নৌযান নিবন্ধন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, নাবিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের কথাও বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে নৌপরিবহন খাতের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রাম বে-টার্মিনাল, পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল এবং লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ড্রেজিং কার্যক্রম জোরদার এবং ডিজিটাল ও অটোমেশন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমন্বিত নৌপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বরাদ্দ কমলেও চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন এবং নৌপথের সক্ষমতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করা গেলে দেশের বন্দরভিত্তিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।।






