মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইটের নির্দেশনা

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, সীমান্ত নজরদারি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জোর; স্পারসোর আধুনিকায়নের তাগিদ।
টুইট প্রতিবেদক: দেশের প্রতিরক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে মহাকাশে বাংলাদেশের তৈরি নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ কে এম শামছুল ইসলাম।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) পরিদর্শনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন। সফরে স্পারসোর বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখে চলমান গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন তিনি।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে মহাকাশ প্রযুক্তি ও দূর অনুধাবনের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। এ প্রযুক্তিকে দেশের নিরাপত্তা, নজরদারি ও কৌশলগত পরিকল্পনায় আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে সীমান্ত পর্যবেক্ষণ, ভূ-স্থানিক তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং কৌশলগত মানচিত্র প্রণয়নে স্পারসোর ভূমিকা বাড়ানোর নির্দেশ দেন।
তিনি স্পারসোর সংগৃহীত স্যাটেলাইট তথ্য ও গবেষণালব্ধ উপাত্ত দ্রুত ও সহজভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনী–এর বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যবহারের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
স্পারসোর কারিগরি সক্ষমতা বাড়াতে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং দূর অনুধাবনের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের ওপরও জোর দেন তিনি। পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও খরার আগাম সতর্কবার্তা এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে দূর অনুধাবন প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করার নির্দেশনা দেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ফসলের অবস্থা, মাটির আর্দ্রতা, বনাঞ্চল ও পানিসম্পদের তথ্য সংগ্রহ করে সরকারকে নির্ভুল উপাত্ত সরবরাহের তাগিদও দেন তিনি।
স্পারসো পরিদর্শনের সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন এবং স্পারসোর চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান। এ সময় মন্ত্রণালয় ও স্পারসোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্লেষকদের মতে, নিজস্ব স্যাটেলাইট প্রযুক্তি দেশের প্রতিরক্ষা নজরদারি, সীমান্ত নিরাপত্তা, কৃষি ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ পূর্বাভাস এবং ভূ-তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনায় নতুন সক্ষমতা তৈরি করতে পারে। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার এই নির্দেশনা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মহাকাশ কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।






