রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু

আদালতে এসে ন্যায়বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি বাবার।
ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। মামলার প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণের আগে আদালতে উপস্থিত হয়ে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং ন্যায়বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে তিনি এ দাবি জানান।
এদিন মামলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে। সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
সকাল পৌনে ৯টার দিকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং সহআসামি স্বপ্না খাতুনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের মহানগর আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
এর আগে সোমবার ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গোপনের অভিযোগে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
একই সঙ্গে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।
গত ২৪ মে আদালত তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। ওইদিনই পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
পরে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, একই ভবনের পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা শিশুটিকে হত্যার পর মরদেহ বিকৃত করেন এবং পালানোর চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ফ্ল্যাটের গ্রিল কেটে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনার দিনই রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
দ্রুত বিচার নিয়ে প্রত্যাশা
শিশু রামিসা হত্যা মামলাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নৃশংস এ ঘটনার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন ভুক্তভোগী পরিবার, মানবাধিকারকর্মী এবং সাধারণ নাগরিকরা। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ায় বিচারিক প্রক্রিয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।






