পিরোজপুরে রহস্যজনক দুই লাশ, নিখোঁজ আরও একজন

মঠবাড়িয়াজুড়ে আতঙ্ক, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ পরিবারের।

টুইট প্রতিবেদক: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় পৃথক স্থান থেকে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই এলাকার আরও একজন ব্যক্তি নিখোঁজ থাকায় ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতদের স্বজনরা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করলেও পুলিশ এখনো ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি।

শনিবার সকালে উপজেলার আমড়াগাছিয়া গ্রাম থেকে আব্দুর রশিদ ও মো. সাগরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুজনই ওই গ্রামের বাসিন্দা। একই এলাকার ইউসুফ প্যাদা নামের আরেক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে আব্দুর রশিদকে শুক্রবার রাত প্রায় ১১টার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়।

এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। শনিবার সকালে নেহালিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

একই সকালে গ্রামের কালু মিয়ার ছেলে মো. সাগরের মরদেহ তার বাড়ির পেছন থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুটি মরদেহই কাদামাটি মাখা অবস্থায় ছিল, যা ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।

নিহতদের পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং সংঘবদ্ধভাবে হত্যার পর মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) পার্থ চক্রবর্তী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ সুপার জানান, কাছাকাছি দুটি স্থান থেকে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

এদিকে একসঙ্গে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার এবং আরেকজনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় মঠবাড়িয়া এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার নেপথ্যের কারণ এবং সম্ভাব্য অপরাধীদের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।