কয়েক ঘণ্টায় ‘সুসংবাদ’?

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা ঘিরে আশাবাদী ওয়াশিংটন, হরমুজ ও পারমাণবিক ইস্যুতে বাড়ছে কূটনৈতিক তৎপরতা।

টুইট প্রতিবেদক: দিল্লিতে অবস্থানরত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্ব ‘সুসংবাদ’ পেতে পারে। রোববার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চার দিনের ভারত সফরে থাকা রুবিও বলেন, চলমান আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং দিনের শেষ নাগাদ ইতিবাচক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

তার ভাষায়, “আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কিছু সুসংবাদ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, সম্ভাব্য এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হরমজ প্রণালী ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ প্রশমিত হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও নতুন একটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইসরাইল ও আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ইরানের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তির “বেশির ভাগ অংশ” চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি এটিকে “শান্তিসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক” হিসেবে বর্ণনা করেন।

ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, সম্ভাব্য সমঝোতার অন্যতম অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনরায় নিশ্চিত করা হতে পারে। তবে তেহরান এ দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।

এরই মধ্যে মাসুদ পেজেসক্রিয়ান স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির অনুমোদন ছাড়া কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না। ফলে সম্ভাব্য চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই তেহরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অন্তত আংশিক সমঝোতাও প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, উপসাগরীয় নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনায় তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।