পাঁচ মাসে ১১৮ শিশু নির্যাতন: উদ্বেগে দেশ

শিশু সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা ও পৃথক কমিশনের দাবি বিশেষজ্ঞদের

টুইট ডেস্ক: দেশে শিশু ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বেসরকারি সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত অন্তত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যা শিশু সুরক্ষা পরিস্থিতিকে গভীর সংকটে ফেলেছে।

প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, একই সময়ে ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে আরও ৪৬ শিশু এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে অন্তত ১৭টি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিক শিশু হত্যার ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতাই নয়, বরং সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়েরও প্রতিফলন। তাদের দাবি, কার্যকর রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পৃথক একটি কমিশন গঠন জরুরি। তাঁর মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় পরিসরসহ সব ক্ষেত্রে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, সমাজে অপরাধীদের সামাজিকভাবে চিহ্নিত ও প্রতিরোধ না করার প্রবণতা অপরাধ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাঁর মতে, অপরাধকে ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে দেখার মানসিকতা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করছে।

সংবিধানের ২৮ ও ৩২ অনুচ্ছেদে শিশুদের জীবন ও নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় শিশু নীতি এবং জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদেও শিশু সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

তবে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বাস্তবে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল আইনি কাঠামো নয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সামাজিক সচেতনতা এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া—সব মিলিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে শিশু নির্যাতনের এই ধারা রোধ করা কঠিন হবে।

শিশুদের নিরাপত্তা এখন কেবল একটি আইনি ইস্যু নয়, বরং সমাজের মানবিক ভিত্তির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি গুরুতর সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।