গৃহশিক্ষিকা হত্যা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গৃহশিক্ষিকা মরিয়ম বেগম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার সুমি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, কাঠের বাটাম দিয়ে আঘাত ও পরে শ্বাসরোধ করে একাই মরিয়ম বেগমকে হত্যা করেন।
বুধবার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় সুমির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। বিষয়টি বৃহস্পতিবার সকালে নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ।
পুলিশ জানায়, নিহত মরিয়ম বেগম চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার উজ্জ্বলপাড়ার বাসিন্দা এবং পেশায় গৃহশিক্ষিকা ছিলেন। তিনি সুমির সন্তানকে পড়াতে নিয়মিত তাদের বাসায় যেতেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত ১৮ মে প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে মরিয়ম বেগম তার ছেলের জন্য ল্যাপটপ কেনার উদ্দেশ্যে সুমির কাছে কিছু টাকা ধার চান। সুমি টাকা দিতে না পারায় মরিয়ম তার কানে থাকা দুটি স্বর্ণের দুল বিক্রির জন্য তাকে দেন। পরে দুল দুটি স্থানীয় স্বর্ণকার দীপক সাহার কাছে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
পুলিশের ভাষ্যমতে, ওই টাকার মধ্যে ৫ হাজার টাকা খরচ করে ফেলেন সুমি। পরে টাকা নিয়ে মরিয়ম ও সুমির মধ্যে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সুমি কাঠের বাটাম দিয়ে মরিয়মকে আঘাত করেন। মরিয়ম চিৎকার শুরু করলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর মরদেহ একটি রেক্সিনে মুড়িয়ে প্রথমে শয়নকক্ষের খাটের নিচে রাখা হয়। পরে বস্তাবন্দি করে ঘরের বাইরের একটি স্থানে সরিয়ে রাখা হয়। রাতে সুমি তার স্বামীকে পুরো ঘটনা জানান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ সুমাইয়া আক্তার সুমি, তার স্বামী মো. রুবেল, শ্বশুর আনোয়ার হোসেন এবং স্বর্ণকার দীপক সাহাকে গ্রেপ্তার করে। দীপক সাহাও আদালতে স্বর্ণের দুল কেনার বিষয়টি স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঠের বাটাম, মরিয়মের এক জোড়া স্বর্ণের দুল এবং দুল বিক্রির অবশিষ্ট ৭ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়া এলাকায় সুমির বাড়ি থেকে মরিয়ম বেগমের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন নিহতের ছেলে মোবারক হোসেন বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।






