বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে জামায়াতের প্রশ্ন

পৃথক সচিবালয় বাতিলকে ‘কালো দিন’ আখ্যা শিশির মনিরের।

টুইট প্রতিবেদক: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় পুনর্বহাল জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শিশির মনির। তিনি অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্ত করে বিচার বিভাগের ওপর “চপেটাঘাত” করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথ রুদ্ধ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্তির প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী।

শিশির মনির বলেন, পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিচারকদের বদলি, ছুটি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রধান বিচারপতির অধীনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটি বাতিল করে আবারও আইন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

তার ভাষ্য, “বিচারকরা যদি সরকারের বিরুদ্ধে কোনো আদেশ দেন, তাহলে তাদের বদলি, পদোন্নতি স্থগিত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়। এটি স্বাধীন বিচার বিভাগের চর্চার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

মাজদার হোসেন মামলা থেকে সচিবালয় প্রতিষ্ঠা

সংবাদ সম্মেলনে শিশির মনির বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিচার বিভাগকে কার্যকরভাবে স্বাধীন করার নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ১৯৯৯ সালে মাজদার হোসেন মামলা–এর রায়ের মাধ্যমে উচ্চ আদালত ১২ দফা নির্দেশনা দেন।

তিনি জানান, ওই নির্দেশনার আলোকে ২০০৭ সালে বিচার বিভাগকে ম্যাজিস্ট্রেসি থেকে পৃথক করা হয় এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন গঠন করা হয়। পরে ২০২৫ সালে দায়ের করা এক রিটের রায়ে হাইকোর্ট ৯০ দিনের মধ্যে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর সরকার অধ্যাদেশ জারি করে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করে এবং ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে এর উদ্বোধন হয় বলে জানান তিনি।

তবে ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল সরকার সেই অধ্যাদেশ বাতিল করে। পরে এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পুনরায় রিট দায়ের করা হয় বলে জানান শিশির মনির।

‘আইন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন’

শিশির মনিরের দাবি, বিচারকদের প্রশাসনিক বিষয়গুলো আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকলে অধঃস্তন আদালতের বিচারকরা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না।

তিনি বলেন, “রাতে আদালত বসিয়ে যাকে ইচ্ছা সাজা দেওয়ার মানসিকতা থাকলেই কেবল বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে রাখতে চাইবে কেউ।”

তার মতে, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধান বিচারপতিকে দেওয়া ৫০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদনের ক্ষমতাও বাতিল করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

বিশ্লেষকদের মতে, বিচার বিভাগীয় সচিবালয় ইস্যুতে নতুন করে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকার ও আইনজীবী মহলের অবস্থান এখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।