মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অগ্নিসংকেত

যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি আইআরজিসির, যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা।
টুইট প্রতিবেদক: ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হলে চলমান সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা অঞ্চলটির বাইরেও বিস্তৃত হতে পারে।
বুধবার আইআরজিসির মুখপাত্রসংবলিত বিবৃতি তাদের নিজস্ব সংবাদমাধ্যম ‘সেপাহ নিউজ’-এ প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় আগ্রাসন চালানো হলে ‘ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া’ দেওয়া হবে এবং শত্রুপক্ষকে “গুঁড়িয়ে দেওয়া” হবে। তেহরানভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদসূত্রের বরাত দিয়ে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে।
এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক দিনের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা না হলে ইরানে ফের হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই তেহরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে আইআরজিসির এই কড়া অবস্থান সামনে আসে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও উত্তেজনা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতে ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বাস্তবে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমেনি। বরং কূটনৈতিক বার্তা বিনিময়ের পাশাপাশি সামরিক হুমকিও বাড়ছে।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করেও ইরানকে দমাতে পারেনি। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, “ইসলামী বিপ্লবের পূর্ণ শক্তি” এখনো প্রয়োগ করা হয়নি।
প্রায় চল্লিশ দিনের ওই যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের নিহত হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করে। এর জবাবে তেহরান বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে বাড়ছে উদ্বেগ
মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন হামলা শুরু হতে পারে। এর আগের দিন তিনি দাবি করেন, উপসাগরীয় আরব নেতারা শেষ মুহূর্তে তাকে হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে শুধু ইরান-ইসরাইল নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল অস্থির হয়ে উঠতে পারে। জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও এর গভীর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানপন্থি আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।






