‘এল ফাশেরের কসাই’ আবারও যুদ্ধে?

আবু লুলুকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, অভিযোগ অস্বীকার আরএসএফের।

টুইট ডেস্ক: সুদানের গৃহযুদ্ধের অন্যতম বিতর্কিত চরিত্র আবু লুলুকে ঘিরে আবারও তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে “এল ফাশেরের কসাই” নামে পরিচিত এই আরএসএফ কমান্ডারকে পুনরায় যুদ্ধক্ষেত্রে দেখা গেছে এমন দাবি সামনে আসতেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে উত্তর দারফুরে।

ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিক হত্যার অভিযোগে আটক হওয়ার পরও আবু লুলু এখন আবার সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন।

একাধিক সামরিক ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, এল ফাশেরে চলমান সংঘর্ষে যোদ্ধাদের মনোবল চাঙা করতেই তাকে পুনরায় মাঠে নামানো হয়েছে।

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা অন্তত নয়টি সূত্র দাবি করেছে, আবু লুলুকে সম্প্রতি যুদ্ধক্ষেত্রে দেখা গেছে। এর মধ্যে কয়েকজন সরাসরি তাকে শনাক্ত করেছেন। আরএসএফ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, এল ফাশেরে টানা সংঘর্ষ ও চাপের মুখে বাহিনীর ভেতরে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, আবু লুলু এখনো হেফাজতেই রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়া চলমান। আরএসএফের ভাষ্য, তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে,এমন খবর “সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর”।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এল ফাশেরে হামলার সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, আবু লুলু তাদেরই একজন। গ্রেফতারের পর থেকে তিনি কখনো কারাগারের বাইরে যাননি বলেও দাবি করা হয়েছে।

উত্তর দারফুরের গুরুত্বপূর্ণ শহর এল ফাশেরে ২০২৫ সালের শেষ দিকে সংঘটিত এক রক্তক্ষয়ী অভিযানের পর আবু লুলুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সহিংসতা চালাতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ ওঠে।

এরপর মানবাধিকার সংস্থাগুলো তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত দাবি করে। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেই থেকেই তিনি আন্তর্জাতিক নজরদারির কেন্দ্রে রয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি সত্যিই আবু লুলুকে আবার যুদ্ধে ফিরিয়ে আনা হয়ে থাকে, তবে এটি আরএসএফের অভ্যন্তরীণ সংকট ও যুদ্ধক্ষেত্রে বাড়তে থাকা চাপেরই ইঙ্গিত বহন করে। একই সঙ্গে এটি সুদানের চলমান সংঘাতকে আরও নৃশংস ও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, মিডল ইস্ট মনিটর