শিশুর চোখে পাহাড়ের গল্প

ইউনিসেফ ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের উদ্যোগে শিশুদের গল্প বলার দক্ষতা বিকাশে দিনব্যাপী কর্মশালা
টুইট ডেস্ক:বান্দরবান প্রতিনিধি: পাহাড়ের শিশুদের কণ্ঠে পাহাড়ের বাস্তব জীবন তুলে ধরার প্রত্যয়ে বান্দরবানে অনুষ্ঠিত হয়েছে “শিশুর চোখে শিশুর গল্প” শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা। শুক্রবার বান্দরবান প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এ কর্মশালায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ১০ জন ক্ষুদে সাংবাদিক অংশ নেয়।
জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সহযোগিতায় শিশু সাংবাদিকতায় বিশ্বের প্রথম বাংলা ওয়েবসাইট ‘হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’ এ আয়োজন করে।
কর্মশালায় অংশ নেওয়া শিশুরা কনটেন্ট নির্মাণ, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, ভিডিও ধারণ, সংবাদ লেখা ও গল্প বলার কৌশল বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পায়। পাশাপাশি তারা নিজেদের আশপাশের জীবন, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও বাস্তবতা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির অনুশীলন করে।
প্রেস ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অংচমং। উদ্বোধনী পর্ব সঞ্চালনা করেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বান্দরবান প্রতিনিধি ও জেলা ‘হ্যালো’ তত্ত্বাবধায়ক উসিথোয়াই মারমা।
দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন ‘হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’-এর সহ-সম্পাদক সাদিক ইভান। তিনি শিশু সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “দেশের মোট জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ শিশু হলেও তাদের কথা খুব কমই গুরুত্ব পায়। শিশু সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিশুদের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্বসহকারে সামনে আনা।”
তিনি আরও বলেন, “যখন বড়রা শুধু পাহাড় নিয়ে লেখে, তখন পাহাড়ের শিশুরা নীরব থাকে। কিন্তু এখন ক্ষুদে সাংবাদিকরাই নিজেদের চোখে দেখা বাস্তবতা নিজের ভাষায় তুলে ধরবে। যে শিশু গ্যারেজে কাজ করে কিংবা যে মেয়ে স্কুল শেষে সংসারের কাজ সামলায়—তাদের গল্পও সামনে আসবে।”
কর্মশালায় অংশ নেওয়া শিশুদের হাতে নোটবুক, কলম ও প্রশিক্ষণ উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। ব্যানারে পাহাড়ি অঞ্চলের শিশু শ্রম ও বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে, যা উপস্থিত সবার মধ্যে গভীর ভাবনার জন্ম দেয়।
আয়োজকরা জানান, শিশুদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা এবং তাদের মত প্রকাশের সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। শিশুদের চোখে দেখা সমাজ ও পাহাড়ের বাস্তবতা সামনে এলে নীতিনির্ধারকরাও নতুনভাবে বিষয়গুলো বিবেচনার সুযোগ পাবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু শিশুদের সাংবাদিকতা শেখায় না; বরং তাদের ভেতরে নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পাহাড়ের প্রকৃত গল্প জানতে হলে পাহাড়ের শিশুদের কণ্ঠই সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য মাধ্যম বলেও মত দেন তারা।
অসীম রায় (অশ্বিনী)
বান্দরবান প্রতিনিধি






