খামার দখল ও মাছ লুটের অভিযোগে যুবদল নেতা বিতর্কে

ময়মনসিংহে মৎস্য খামার ঘিরে উত্তেজনা, আদালতে মামলা চলমান।

টুইট প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে মৎস্য খামার দখল, মাছ লুট, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত হলেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সালেহ আকরাম খান তসলিম। বুধবার ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন জুলাইযোদ্ধা মঈন খান ও গফরগাঁও সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুষার খান।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার স্বল্পছাপিলা গ্রামে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে একটি বাণিজ্যিক মৎস্য খামার গড়ে তোলেন মঈন খান ও তার স্বজনেরা। খামারের আওতায় স্থানীয় জামে মসজিদের ওয়াকফকৃত সম্পত্তিও ছিল বলে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মঈন খান অভিযোগ করেন, এর আগে একই প্রকল্পের লিজ নিয়েছিলেন যুবদল নেতা সালেহ আকরাম খান তসলিম। তবে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি জমির মালিকদের লিজের অর্থ পরিশোধ করেননি। এমনকি মসজিদের ওয়াকফ সম্পত্তির প্রায় ৬৩ হাজার টাকাও বকেয়া রাখেন বলে দাবি করা হয়। পরে জমির মালিকরা তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে নতুন করে মঈন খানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন।

এ ঘটনায় তসলিম ৪২ জন কৃষকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তসলিম দেশীয় অস্ত্রধারী কয়েকজনকে নিয়ে মৎস্য খামারে প্রবেশ করেন এবং শ্রমিকদের মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

খবর পেয়ে মঈন খান ও তার স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মঈনের বড় ভাই সারোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় পাগলা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান অভিযোগকারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে অভিযুক্ত যুবদল নেতা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দফায় দফায় খামার থেকে মাছ লুট করে নিয়ে যান। লুট হওয়া মাছের আনুমানিক মূল্য সাড়ে ৭ লাখ টাকা বলে দাবি করেন মঈন খান। একই সঙ্গে খামারের আশপাশে গেলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।

মঈন খান বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। কিন্তু এখন রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তাদের জীবিকা দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি জানান ভুক্তভোগীরা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— দখলকৃত মৎস্য খামার উদ্ধার, লুট হওয়া মাছের ক্ষতিপূরণ আদায়, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

অভিযোগের বিষয়ে সালেহ আকরাম খান তসলিম বলেন, অভিযোগকারীরা ২২ কাঠা জমিতে মাছ চাষ করতেন এবং এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে।