আগে দেখতাম সবাই আওয়ামী লীগ করে, এখন দেখি কেউ করে না: সাকিব

এখন তো ঢাকায় পা রাখাটাই বড় চিন্তা
টুইট ডেস্ক: দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকার পর এবার দেশের রাজনীতি, নিজের সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করা এই ক্রিকেটার সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে দেওয়া মন্তব্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
‘সিম্পলি সাঈদ’-কে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে সাকিব বলেন, “একটা সময় দেখতাম সবাই আওয়ামী লীগ করে, আর এখন দেখি যে কেউ আওয়ামী লীগ করে না।”
রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া নিয়ে অনুশোচনা আছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নিজের সিদ্ধান্তকে ভুল মনে করেন না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই ক্রিকেটার বলেন, তিনি পরিস্থিতিকে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই দেখেছেন এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেট কিংবদন্তি ইমরান খান-এর মতো নতুন রাজনৈতিক দল গঠন না করে কেন প্রচলিত রাজনৈতিক দলে যোগ দিলেন? উত্তরে সাকিব সরাসরি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি, বরং সিদ্ধান্তের পক্ষে ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেন।
দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তার কণ্ঠে শোনা যায় অনিশ্চয়তার সুর। আগামীতে দেশে ফিরলে প্রথমে কোথায় যাবেন- মিরপুর স্টেডিয়াম নাকি নিজ জেলা মাগুরা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখন তো ঢাকায় পা রাখাটাই বড় চিন্তা।”
এ সময় খেলোয়াড় থাকা অবস্থায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পেছনে কোনো নিরাপত্তা ভাবনা কাজ করেছিল কি না, এমন প্রশ্নও করা হয় তাকে। জবাবে আবেগঘন কণ্ঠে সাকিব বলেন, “আমি কখনো মাগুরাতে সাকিব আল হাসান হইনি। আমি সব সময় মাগুরাতে ফয়সালই ছিলাম।”
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দেশে না ফেরা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনা- সব মিলিয়ে সাকিবকে ঘিরে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে ক্রীড়াঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়া তারকার এমন খোলামেলা রাজনৈতিক মন্তব্য বর্তমান বাস্তবতায় নতুন বিতর্ক ও আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।






