বান্দরবানে টিআরসি নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

মেধাই একমাত্র মানদণ্ড বললেন এসপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান: বান্দরবান পার্বত্য জেলায় ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ–২০২৬ এর লিখিত পরীক্ষা সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

আজ সকাল ১১টায় বান্দরবান পুলিশ লাইন্স স্কুলে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্র পরিদর্শন করেন নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার।

পরিদর্শন শেষে এসপি বলেন, “শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে শুধুমাত্র যোগ্যতম প্রার্থীকেই নির্বাচিত করা হবে। তদবির, সুপারিশের কোনো সুযোগ নেই। কেবল মেধা ও যোগ্যতাই মানদণ্ড।”

তিনি আরও জানান, একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নিয়োগ প্রক্রিয়া উপহার দিতে জেলা পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ। এসময় নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পাহাড়ে চাকরি মানে আগে মানুষ ভাবতো ‘লবিং লাগবে’, ‘টাকা লাগবে’। আজ এসপি স্যার সরাসরি বললেন—“মেধাই একমাত্র মানদণ্ড”। কথাটা ছোট, কিন্তু ওজন অনেক।

একটা ছেলে রুমার দুর্গম পাড়া থেকে এসে, একটা মেয়ে থানচির জুমঘর থেকে নেমে এসে পরীক্ষার হলে বসেছে—সে যদি জানে তার কলমের কালিই তার ভবিষ্যৎ ঠিক করবে, কারো ফোনকল না, তাহলে তার চোখে যে আত্মবিশ্বাসটা দেখা যাবে, সেটাই তো বাংলাদেশের আসল শক্তি।

পুলিশ লাইন্স স্কুলের গেটে দাঁড়ানো হাজারো তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন আজ কাগজে-কলমে লড়ছে। স্বচ্ছতা থাকলে এই ছেলেমেয়েগুলোই কাল উর্দি পরে পাহাড়ের আইনশৃঙ্খলা সামলাবে, পর্যটককে পথ দেখাবে, নিজের এলাকার মানুষের ভরসা হবে।

তবে স্বচ্ছতা মুখের কথায় না, কাজে প্রমাণ হবে। নিয়োগ শেষে যখন লামার একটা গরিব পরিবারের ছেলে হাসিমুখে বাড়ি ফিরবে, যখন থানচির মেয়েটা বলবে “আমি নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছি” সেদিন বুঝবো নতুন কুঁড়ি সত্যিই ফুটছে।

এসপি স্যারের এই অঙ্গীকারটা যেন শেষ পর্যন্ত থাকে। মেধাকে সম্মান দিলে পাহাড় থেকে শুধু পর্যটক না, সৎ পুলিশও উঠে আসবে। আর সৎ পুলিশ মানেই নিরাপদ বান্দরবান।