ইতালির মুক্তি দিবস আজ: ফ্যাসিবাদের পতনে স্বাধীনতার নবযুগ

১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল নাৎসি দখলদারিত্বের অবসান,প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সংগ্রামে গড়ে ওঠে আধুনিক গণতান্ত্রিক ইতালি

 

টুইট প্রতিবেদক: ইতালির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ‘ফেস্তা দেল্লা লিবেরাৎসিওনে’ বা মুক্তি দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় উৎসব। ১৯৪৫ সালের এই দিনে নাৎসি বাহিনীর দখলদারিত্ব ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ইতালি স্বাধীনতার স্বাদ পায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ইতালির সাধারণ জনগণ, শ্রমিক, কৃষক ও প্রতিরোধ যোদ্ধারা সম্মিলিতভাবে ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।

তাদের এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই উত্তর ইতালির গুরুত্বপূর্ণ শহর মিলান ও তুরিন মুক্ত হয়, যা চূড়ান্ত পতনের পথ তৈরি করে ফ্যাসিবাদী শক্তির।

এই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই পতন ঘটে বেনিতো মুসোলিনির শাসনের। দীর্ঘদিনের স্বৈরাচার থেকে মুক্ত হয়ে ইতালির জনগণ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রবেশ করে, যার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে আধুনিক রাষ্ট্র কাঠামো।

স্বাধীনতার পরপরই ১৯৪৬ সালে অনুষ্ঠিত গণভোটে ইতালির জনগণ রাজতন্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের পক্ষে রায় দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রণীত হয় নতুন সংবিধান, যেখানে নাগরিক অধিকার, স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী গান ‘বেলা চাও’ আজও স্বাধীনতার অনুপ্রেরণা হিসেবে দেশজুড়ে উচ্চারিত হচ্ছে। র‍্যালি, স্মৃতিচারণ এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে ইতালির জনগণ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দিবস কেবল একটি ঐতিহাসিক বিজয়ের স্মারক নয়,বরং গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিন।

আজকের ইতালির রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর মূল ভিত্তি নিহিত রয়েছে সেই মুক্তির সংগ্রামে।

রাষ্ট্রীয় ছুটির এ দিনে দেশজুড়ে বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে উদযাপিত হচ্ছে ইতালির স্বাধীনতার এই গৌরবগাথা।